বগুড়া-৬ উপ-নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতায় উদ্বেগ—সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের সাংবাদিক সম্মেলন
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনকে ঘিরে ক্রমাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন, নির্বাচনী সহিংসতা ও প্রশাসনের নীরব ভূমিকার অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ আবিদুর রহমান সোহেল। তিনি বলেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করে তুলছে।
তিনি জানান, এর আগেও গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগের পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তার দাবি, প্রতিপক্ষ ধানের শীষ প্রতীকের নেতাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে তার প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করছে এবং তার কর্মীদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একাধিক নির্দিষ্ট ঘটনার বর্ণনা দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শাখারিয়া ইউনিয়নে তার নারী কর্মী মাজেদা বেগমের বাড়িতে দুই দফা গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিকভাবে ক্ষতির হুমকি দিয়েছে। ফাঁপোড় ইউনিয়নের নেতা কামাল হোসেন এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি মিজানুর করিম মাসুদ তার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাতে নিষেধ করছেন এবং তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া ২০ নম্বর ওয়ার্ডে তার একটি উঠান বৈঠকের খবর পেয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা হাত কাটা শুস্তুর নেতৃত্বে সমাবেশ পণ্ড করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় এবং পাশেই উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে অনুষ্ঠান ব্যাহত করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এরুলিয়া এলাকায় তার নারী কর্মী নাজনিন আক্তারকে মারধরের অভিযোগও তোলেন তিনি, যেখানে প্রতিপক্ষের এক ব্যক্তি ‘পোটল’ ও তার সহযোগীদের দায়ী করেন। একইভাবে ফাপোঁড় এলাকায় তার কর্মী নেছার উদ্দিনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুরো নির্বাচনী এলাকায় তার ব্যানার ও ফেস্টুন খুলে ফেলে প্রতিপক্ষের ব্যানার টাঙানো হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এসব ঘটনায় তিনি ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে মোট ১৫টি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও প্রমাণও সংযুক্ত করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।
তার আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠতে পারে এবং অতীতের মতো অনিয়মপূর্ণ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এমনকি তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থী নাকি জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সন্ত্রাসীদের এনে ভোটের দিন কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির পরিকল্পনা করছে—যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে তিনি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, দলীয় প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ বাতিল এবং নির্বাচনের আগেই সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ ভোটের দিন পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করা।
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে মোঃ আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান এবং সে লক্ষ্যে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।.
Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন
আপনার মতামত লিখুন: