বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় এক তরুণীকে ধর্মান্তর করে বিয়ে, পরবর্তীতে বিচ্ছেদ এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার পারভবানীপুর গ্রামের রিমা আক্তার প্রায় দুই বছর আগে শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ডেমাজানী গ্রামের জয়ন্ত কুমার সাহার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের আগে রিমাকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল, যা সত্য প্রমাণিত হলে জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তন এবং বিবাহের বৈধতা নিয়ে গুরুতর আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে। ২০২২ সালে বিয়ের পর কিছুদিন সংসার চললেও পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে বিচ্ছেদ হয়। এরপর দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে ২০২৩ সালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এলাকাবাসীর দাবি, ওই সালিশে রিমার পরিবারকে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তবে এই অর্থ কী কারণে, কোন শর্তে এবং কী আইনি ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি রিমা পুনরায় জয়ন্তের সংসারে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করলে জয়ন্তের পরিবার তাকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এবং এতে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয় একটি মহলের অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত প্রতারণা কিংবা চাপ প্রয়োগের অংশ হতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, ধর্মান্তর, বিচ্ছেদ এবং অর্থ লেনদেনের এই জটিল ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এস এ
আপনার মতামত লিখুন: