শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষকদের নিয়োগ পরীক্ষার কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করেন। এ সময় তার উপস্থিতি ও আচরণে কঠোর নজরদারির বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।.
.
রাজধানীর সরকারি বাংলা কলেজ, রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, তেজগাঁও কলেজসহ একাধিক কেন্দ্রে ঘুরে দেখেন তিনি। বিশেষ করে গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স কেন্দ্রে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পরীক্ষার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরীক্ষার হলের ভেতরের পরিবেশ সরাসরি বোঝার জন্য তিনি জানালায় উঁকি মেরে পরিদর্শন করেন—যা উপস্থিতদের মাঝে কৌতূহল ও সচেতনতা দুটোই বাড়িয়ে দেয়। হঠাৎ করে এভাবে পরিস্থিতি যাচাইয়ের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত হতে চান, কোথাও কোনো অনিয়ম বা নকলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কিনা।.
.
এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর অধীনে, যেখানে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকার মোট ৯টি ভেন্যুতে চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত অংশেও ছিল ব্যাপক অংশগ্রহণ, ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা যায়।.
.
পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরীক্ষা পরিচালনায় কোনো ধরনের গাফিলতি না রাখার নির্দেশ দেন। তিনি আগেই জানিয়েছেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না এবং মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তার ভাষায়, প্রয়োজনে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনিয়ম খুঁজে বের করা হবে।.
.
সব মিলিয়ে, মাদ্রাসা শিক্ষকদের পরীক্ষাসহ সামগ্রিক নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের এই সরেজমিন পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানালায় উঁকি মেরে পরিদর্শনের মতো বাস্তবধর্মী তদারকি পদ্ধতি তার কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে এবং পরীক্ষার পরিবেশকে নকলমুক্ত রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: