• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ, জবাব সন্তোষজনক না হলে শাস্তি


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:০৩ পিএম
গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে শোকজ, জবাব সন্তোষজনক না হলে শাস্তি

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। .

 .

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে 'স্বৈরাচার' আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। .

তাদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।.

আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তরে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।.

তিনি বলেন, "শোকজ করার বিষয়টি সত্য। পত্র-পত্রিকায় যাদের নাম এসেছে, তারাই শোকজের তালিকায় রয়েছেন। তাদের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।".

এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করার এখতিয়ার রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু শোকজ করা হয়েছে, তাই এ মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। জবাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।.

শোকজ করা তিন কর্মকর্তা হলেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ।.

জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তিন কর্মকর্তা বক্তব্য দেন। সেখানে তারা দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে এক্সিম ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে গভর্নরের সমালোচনা করেন এবং তাকে 'স্বৈরাচার' আখ্যা দেন।.

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন এবং কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি সর্বদলীয় ঐক্য গঠন করা হয়েছে। নীল, হলুদ ও সবুজ—এই তিন দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এ ঐক্যের সমন্বয়ক করা হয়েছে নির্বাহী পরিচালক ও বিএফআইইউ-এর ডেপুটি হেড মফিজুর রহমান খান চৌধুরীকে। তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাকে দেখা যায়নি।.

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের সংবাদ সম্মেলন, সভা বা বক্তব্য দেওয়ার আগে গভর্নরের অনুমোদন নিতে হয়। এছাড়া গভর্নর বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা অভ্যন্তরীণ ফোরামে আলোচনার সুযোগ রয়েছে; এভাবে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ নেই। অথচ নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে একই দিন অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।  .

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিকাশকে তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে কর্মকর্তাদের সরবরাহ করা নথি অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স মূল্যায়নসহ আটটি এজেন্ডা নিয়ে পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।.

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ ব্যাংক খাত নিয়ে গভর্নরের 'খেয়ালিপূর্ণ' বক্তব্য বন্ধ করা এবং বস্তুনিষ্ঠ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক রেজল্যুশন নিশ্চিত করার দাবি জানান। .

তিনি বলেন, অপেক্ষাকৃত কম দুর্বল এক্সিম ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংককে পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। .

কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ বলেন, "আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন চাই। তবে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানের জন্য, ব্যক্তির জন্য নয়। স্বায়ত্তশাসন মানে এই নয় যে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান একনায়ক বা স্বৈরাচার হয়ে উঠবেন। গভর্নর স্বৈরাচার হয়ে উঠেছেন বলেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা এই সংবাদ সম্মেলন করেছি।"  .

বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা নীরব ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুম বিল্লাহ বলেন, "আগে বলিনি বলে এখন প্রশ্ন তুলছেন। এখনও না বললে ভবিষ্যতেও প্রশ্ন তুলবেন। আমরা এই দায় বহন করতে চাই না।" .

নওশাদ মোস্তফা বলেন, "৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান না ঘটলে হয়তো আমরা এতটা খোলামেলাভাবে কথা বলতাম না।".

.

Ajker Bogura / Md Shourov Hossain

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ