বগুড়া বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম সবজি উৎপাদনের জেলা। প্রতি সবজি মৌসুমে বগুড়া জেলায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা মূল্যের সবজি উৎপাদন হয়। নিজ জেলা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণের পরেও সবজির বড় একটি অংশ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়। সবজির বড় একটি অংশ নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সবজি সংরক্ষণাগারের অভাব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ ইং সবজি উৎপাদন মৌসুমে (খরিপ-১ রবি ও খরিপ-২) এ জেলায় ২৪ হাজার ৯শ'হেক্টর জমিতে উৎপাদিত সবজির পরিমাণ ৫ লাখ ২২ হাজার ৬৫২ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। কৃষি অফিস সূত্র থেকে আরো জানা যায়, ২০২৫-২৬ ইং সবজি উৎপাদন মৌসুমে বগুড়ায় উৎপাদিত উদ্ধৃত সবজির পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ ৭ হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন। এই সবজির বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের পরেও প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সবজি নষ্ট হয়ে যায়। রবি মৌসুমের শুরুতে এবং শেষে সবজির বাজার দর সন্তোষজনক থাকলেও মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে দাম একেবারে তলানিতে নামে। ওই সময় বাড়তি উৎপাদনে দাম না পেয়ে কৃষকরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মূলা সহ হরেক রকম সবজি রাস্তায় ফেলে দেয় কিংবা পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেন। দাম না পেয়ে চলতি মৌসুমে অনেক কৃষক জমিতেই আলু নষ্ট করে ফেলেছেন। বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকার কৃষক মোঃ জামাল সরকার বলেন, "এবার শিম চাষ করে মোটামুটি ভালো দাম পেলেও মৌসুমীর শেষের দিকে দাম না পেয়ে গরু ছাগলের খাদ্য হিসেবে শিম ও গাছ কাজে লাগিয়েছি"। আরে কৃষক এমাজউদ্দিন বলেন, "গেল রবি মৌসুমে বেগুন চাষ করেছিলাম ফলন ভালো হলেও ভালো দাম পাইনি। অথচ ওই বেগুন সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে অন্য সময় তা বিক্রি করে লাভবান হওয়া যেত"। কৃষক জয়নাল আবেদীন আক্ষেপ করে বলেন, "উন্নত বিশ্বের মত সবজি সংরক্ষণ করা গেলে আমরা যেমন ন্যায্য দাম পেতাম সারা বছর সবজির দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকতো"। কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "অনেক সময় সবজি নিয়ে বাজারে গিয়ে দেখি আমদানি বেশি তাই দাম একেবারেই কম। বাধ্য হয়ে অতি কম দামে বিক্রি করতে হয়। আবার বিক্রি না হলে তা রাস্তার ধারে অনেক ক্ষেত্রে ফেলে দিতে হয় "। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, "কৃষকরা কষ্ট করে বছরজুড়ে ফসল উৎপাদন করলেও বেশিরভাগ সময় তারা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে অনেক সময় দেখা যায় কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল জমিতেই নষ্ট করে ফেলে দেন। ন্যায্য মূল্য না পাওয়াতে অনেক কৃষক দিন দিন সবজি উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন"। তিনি আরো বলেন, "জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নানা মাধ্যমে সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, নানা প্রতিশ্রুতি ও মিলেছে অথচ এটি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি"।.
Ajker Bogura / তারিন মোস্তারি
আপনার মতামত লিখুন: