• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত ২০


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০১:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

এবারের ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে ১৫ দিনে (১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ) দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত হয়েছেন। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী এবং ৬৭ জন শিশু।.

বুধবার (১ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।.

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৪৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১১৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৪৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩৬ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ০৮ শতাংশ।.

 

এই সময়ে ১১টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ২৩ জন আহত এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২৯টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত এবং ২০৯ জন আহত হয়েছেন।. .

দুর্ঘটনার বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং প্রাণহানি ২৪ দশমিক ১৬ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৫ শতাংশ এবং প্রাণহানি ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং প্রাণহানি ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং প্রাণহানি ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৪ দশমিক ০২ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৫ দশমিক ০৩ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ ঘটেছে।.

চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। সেখানে ৯৩টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম, ১২ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ৪৩টি দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত হয়েছেন।.

 

এবারের ঈদুল ফিতরে রাজধানী ঢাকা থেকে ১ কোটির বেশি মানুষ ঘরমুখী যাত্রা করেছেন এবং দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ৪ কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। আগেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা এবং ঈদের আগে-পরে দীর্ঘ ছুটি থাকার কারণে ঘরমুখী ও ফিরতি যাত্রায় ট্রেন ছাড়া সড়ক ও নৌপথে তুলনামূলক ভিড় কম ছিল। তবে অব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে, যা সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি হয়েছে। ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১১ দিনে ২৫৭টি দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন।. .

সুপারিশসমূহ.

১. জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনআরএসসি) পুনর্গঠন করে এর অধীনে বিআরটিএ, বিআরটিসি এবং ডিটিসিএ পরিচালনা করতে হবে। কাউন্সিলকে আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা দিতে হবে।.

২. বিআরটিএ, বিআরটিসি এবং ডিটিসিএ-এর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং এসব টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দিতে হবে।.

৩. মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।.

৪. সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার করতে হবে।.

৫. রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।.

৬. বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিবহন সেবা উন্নত করে সরকারের পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।.

৭. দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বাড়িয়ে তাদের বেতন, কর্মঘণ্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।.

৮. স্বল্পগতির ছোট যানবাহনের জন্য সকল মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণসহ নিরাপদ সড়ক নকশা নিশ্চিত করতে হবে।.

৯. সকল রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ করতে হবে।.

১০. সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।.

১১. প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে, কারণ তারা জনপ্রশাসন পরিচালনা ও নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।.

১২. টেকসই পরিবহন কৌশলের অধীনে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। এতে সমন্বিত, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।.

সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি।. .

Ajker Bogura / মো: সাইমুম জাহান

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ