বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের হলে শিক্ষার্থীর বদলে শূকরের আস্তানা, কর্মচারীদের দখলে আবাসন—দেড় যুগের অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা.
বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী -এর আবাসিক হলগুলো আজ যেন শিক্ষার পরিবেশ নয়, বরং অব্যবস্থাপনা আর দখলদারিত্বের প্রতিচ্ছবি। কলেজটির তিনটি হলই কার্যত শিক্ষার্থীদের হাতছাড়া—একটিতে চলছে শূকর পালন, আর বাকি দুটি হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মচারী।.
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত শের-ই-বাংলা হলে। প্রায় দেড় যুগ ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই হলটি এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। যেখানে একসময় শিক্ষার্থীদের কোলাহল থাকার কথা, সেখানে এখন মাদকের আসর আর অনিরাপদ পরিবেশ—যা পুরো শিক্ষাঙ্গনের জন্যই এক ভয়াবহ বার্তা।.
শিক্ষার্থীরা বলছেন, আবাসিক সুবিধা না থাকায় তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা হলে থাকার সুযোগ না পেয়ে বাড়তি খরচে মেসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির হলগুলো বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা আর দখলের কারণে অচল হয়ে পড়ে আছে—এ যেন এক প্রকার নীরব অবিচার।.
তাদের আক্ষেপ, “যেখানে আমাদের থাকার কথা, সেখানে শূকর থাকে! আর যারা দেখভাল করার দায়িত্বে, তারাই দখল করে আছে হল!”.
শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত শূকর অপসারণ, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং হলগুলো সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।.
একসময় জেলার গর্ব হিসেবে পরিচিত এই কলেজের এমন বেহাল দশা শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সচেতন মহলের মাঝেও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—কর্তৃপক্ষ এই দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার অবসান ঘটাতে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: