সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীকে গুলি করার ঘটনায় বরখাস্তকৃত শিক্ষক ডা. রায়হান শরীফকে ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।.
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে উপস্থিত আসামির সামনেই এই রায় দেওয়া হয়।.
আদালত সূত্রে জানা যায়, অস্ত্র আইনের দুটি পৃথক ধারায় ডা. রায়হান শরীফকে সাজা দেওয়া হয়েছে। অবৈধ বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিন নিজের কাছে রাখার দায়ে তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আরেক ধারায় আরও ৭ বছরের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি সাজাই পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে বলে আদালত উল্লেখ করেন।.
দণ্ডপ্রাপ্ত রায়হান শরীফ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। ঘটনার পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।.
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ মার্চ মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলায় ক্লাস চলাকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের পায়ে গুলি করেন ওই শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে শিক্ষকের এমন ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।.
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ডা. রায়হান শরীফকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, ৮১ রাউন্ড গুলি, চারটি ম্যাগাজিন এবং দুটি অত্যাধুনিক ছোরা উদ্ধার করা হয়।.
পরে সিরাজগঞ্জ সদর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়াদুদ আলী বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।.
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ রফিক সরকার বলেন, এটি ছিল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘটনা। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন।. .
Ajker Bogura / টি এম
আপনার মতামত লিখুন: