রাজধানীতে চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোকাররম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর তার মরদেহ ৮ টুকরো করে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মা-মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। হত্যার পরদিন তারা বাইরে ঘুরতে যান, হোটেলে বিরিয়ানি খান এবং রাতে বাসার ছাদে ‘পার্টি’ও করেন বলে জানিয়েছে র্যাব-৩।.
র্যাব জানায়, পারিবারিক কলহ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বিষয় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিকে কেন্দ্র করে মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমা আক্তারের বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে তাসলিমা তার মা হেলেনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।.
অভিযোগ রয়েছে, ১৪ মে সকালে নাশতার সময় মোকাররমকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে তিনি ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হাতুড়ি ও ধারালো বঁটি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।.
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে গিয়ে টুকরো করা হয়। পরে পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাখা হয় মরদেহের অংশগুলো। রাতের আঁধারে ভবনের নিচে ময়লার স্তূপে সাত টুকরো ফেলে দেওয়া হয় এবং মাথার অংশ বাসা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।.
ঘটনার পরদিন অভিযুক্তরা বাইরে ঘোরাঘুরি করেন এবং রাতে বাসার ছাদে পার্টি করেন বলেও জানিয়েছে র্যাব। পরে মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।.
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে এনআইডি শনাক্ত করে নিহত ব্যক্তি মোকাররম বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।.
ঘটনার তদন্তে নেমে র্যাব-৩ হেলেনা আক্তার ও তার মেয়ে হালিমাকে গ্রেফতার করেছে। পলাতক তাসলিমা আক্তারকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।. .
Ajker Bogura / টি এম
আপনার মতামত লিখুন: