• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

কিডনি প্রতিস্থাপন: নতুন আইনেও বাড়ছে না ‘ইমোশনাল ডোনার’


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:২২ এএম
কিডনি প্রতিস্থাপন: নতুন আইনেও বাড়ছে না ‘ইমোশনাল ডোনার’
কিডনি প্রতিস্থাপন: নতুন আইনেও বাড়ছে না ‘ইমোশনাল ডোনার’

তবে ইমোশনাল ডোনারের কিছু আবেদন যাচাই–বাছাইয়ের অপেক্ষায় আছে। যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে অনেক হাসপাতাল এই ধরনের ডোনার নিতে আগ্রহী নয়।.

 .

দেশে বর্তমান আইনে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও সহানুভূতির সম্পর্ক রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের 'ইমোশনাল ডোনার' হিসেবে কিডনি দানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ম রেখে গেজেট প্রকাশের চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ইমোশনাল ডোনারের কিডনি প্রতিস্থাপন হয়নি।.

তবে ইমোশনাল ডোনারের কিছু আবেদন যাচাই–বাছাইয়ের অপেক্ষায় আছে। যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে অনেক হাসপাতাল এই ধরনের ডোনার নিতে আগ্রহী নয়।.

গত বছরের ১৯ নভেম্বর মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। আগের আইনে ২২ জন নিকটাত্মীয় কিডনি দিতে পারতেন। নতুন অধ্যাদেশে নিকটাত্মীয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন—পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী এবং রক্তসম্পর্কিত আপন চাচা, ফুফু, নানা-নানি, দাদা-দাদি, নাতি-নাতনি, আপন চাচাতো, মামাতো, ফুফাতো ও খালাতো ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগনে-ভাগনি এবং সৎভাই বা বোন।.

এই নিকটাত্মীয়দের বাইরে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, 'ইমোশনাল ডোনার'ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন।.

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার ঘাটতি ও পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে অনেকেই ইমোশনাল ডোনার সম্পর্কে জানেন না। পাশাপাশি প্রক্রিয়াটি জটিল হওয়া এবং অনৈতিক বা অবৈধ চর্চার ঝুঁকির আশঙ্কাও রয়েছে।.

ইমোশনাল ডোনার হতে যা লাগবে .

ইমোশনাল ডোনার হতে হলে বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে, মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে এবং সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় সম্মতি দিতে হবে। কোনো আর্থিক প্রলোভন, চাপ বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য থাকা যাবে না। গ্রহীতার নিকট আত্মীয় না হলেও দীর্ঘদিনের পরিচিত হতে হবে এবং তাকে নিঃস্বার্থ দাতা হিসেবে নির্ধারণ ও অনুমতি প্রদান কমিটির সুপারিশ থাকতে হবে।.

মাদকাসক্ত ব্যক্তি, বাণিজ্যিক বা আর্থিক প্রলোভনে অঙ্গ দানে আগ্রহী ব্যক্তি এবং যে কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি—যা তাকে দাতা হিসেবে অনুপযুক্ত প্রমাণ করে—তারা ইমোশনাল ডোনার হতে পারবেন না।.

ইমোশনাল ডোনার নির্ধারণ ও অনুমতি প্রদানের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।.

কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপন আইন সংশোধনের পর 'ইমোশনাল ডোনার'-এর মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য অনেকেই আবেদন ফরম সংগ্রহ করছেন। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বেশ কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই–বাছাই শেষে সেগুলোর অনুমোদন দেওয়া হবে।.

তিনি বলেন, এ সেবাকে অটোমেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের যেকোনো স্থান থেকে অনলাইনে আবেদন করা যায়। তবে এ বিষয়ে মানুষের সচেতনতা এখনও কম। তাই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো জরুরি।.

আগ্রহী নয় অনেক হাসপাতাল .

তবে ইমোশনাল ডোনার নির্ধারণের প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় এ ধরনের ডোনারের কিডনি প্রতিস্থাপনে আগ্রহী নয় অনেক হাসপাতাল। .

কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা এবং খ্যাতনামা নেফ্রোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশিদ বলেন, "আমাদের হাসপাতালে সপ্তাহে দুইটি করে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। সরকার নিকটাত্মীয়ের পরিধি বাড়ানোয় ট্রান্সপ্লান্টের গতি বেড়েছে। আমরা নিকট আত্মীয়দের ডিএনএ পরীক্ষা করে ট্রান্সপ্লান্ট করি। কিন্তু আমরা ইমোশনাল ডোনার গ্রহণ করি না।".

তিনি বলেন, "কারণ এতে অনৈতিক কিছু ঘটতে পারে। কেউ পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে কাউকে ইমোশনাল ডোনার সাজিয়ে আনতে পারে। এতে পুরো প্রক্রিয়া বিতর্কিত হতে পারে। ফলে ভারত-পাকিস্তানের মতো বৈধের তুলনায় অবৈধ ট্রান্সপ্লান্ট বেড়ে যেতে পারে, যা কিডনি রোগীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।".

ডা. হারুন উর রশিদ বলেন, "কিডনি দাতার সংখ্যা বেড়েছে। ক্যাডাভরিক ট্রান্সপ্লান্টের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি সারাদেশে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার বাড়াতে হবে এবং সেবার পরিসর আরও বিস্তৃত করতে হবে।".

চিকিৎসকেরা জানান, দেশে কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ। প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়। নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বা বিনা চিকিৎসায় মারা যায়।.

দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কিডনি ফাউন্ডেশন, সিকেডি এবং কিডনি ফাউন্ডেশন—এই চারটি প্রতিষ্ঠানে ট্রান্সপ্লান্ট করা হচ্ছে। ১৯৮২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়েছে।.

২০২৩ সালে বিএমইউ ও কিডনি ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ক্যাডাভরিক ট্রান্সপ্লান্ট শুরু করে। তবে গত বছর একটিও ক্যাডাভরিক ট্রান্সপ্লান্ট হয়নি।.

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "নীরব ঘাতক কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। কিডনি রোগ প্রতিরোধে ভেজাল খাবার খাওয়া যাবে না। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।". .

Ajker Bogura / Md Shourov Hossain

স্বাস্থ্য বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ