• ঢাকা
  • রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

সন্তান নেওয়ার আগে নারী-পুরুষের যেসব পরীক্ষা জরুরি


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:২২ পিএম
সন্তান নেওয়ার আগে নারী-পুরুষের যেসব পরীক্ষা জরুরি

নতুন অতিথিকে ঘিরে স্বপ্ন বোনা শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। কারও ঘরে ছোট্ট পায়ের শব্দ শোনার অপেক্ষা, কারও মনে নাম ঠিক করার ব্যস্ততা; সন্তান পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলোর একটি। তবে চিকিৎসকদের ভাষায়, এই আনন্দযাত্রা কেবল মানসিক প্রস্তুতির বিষয় নয়, সমান গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রস্তুতিও।.

 .

 .

আমাদের দেশে এখনো অনেক দম্পতি গর্ভধারণের পর প্রথমবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার আগেই কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নিলে ভবিষ্যতের নানা ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। এতে শরীরে লুকিয়ে থাকা হরমোনজনিত সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা সংক্রমণ আগে থেকেই ধরা পড়ে। প্রয়োজনে চিকিৎসা শুরু করা গেলে গর্ভধারণ হয় নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী।.

 .

 .

 .

চলুন জেনে নেওয়া যাক, সন্তান নেওয়ার আগে নারী ও পুরুষ দুজনেরই কোন কোন পরীক্ষা করা জরুরি।.

 .

 .

নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা.

 .

 .

 .

১. হরমোন টেস্ট.

 .

 .

থাইরয়েড, প্রোল্যাক্টিনসহ অন্যান্য প্রজনন হরমোনের মাত্রা জানা খুবই প্রয়োজন। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ওভুলেশন ও ঋতুচক্রে প্রভাব পড়ে। এতে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আগে থেকেই পরীক্ষা করালে সমস্যার সমাধান সহজ হয়।.

 .

 .

২. ওভারিয়ান রিজার্ভ টেস্ট.

 .

 .

অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (এএমএইচ) পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাণুর পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যারা কিছুটা দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই পরীক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।.

 .

 .

৩. পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ড.

 .

 .

জরায়ু ও ডিম্বাশয়ে ফাইব্রয়েড, সিস্ট বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) আছে কি না, তা বোঝার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। সমস্যা আগে ধরা পড়লে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ ও কার্যকর হয়।.

 .

 .

৪. সংক্রমণ সংক্রান্ত রক্ত পরীক্ষা.

 .

 .

হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি এবং রুবেলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে কি না, তা জানা জরুরি। কিছু সংক্রমণ গর্ভাবস্থায় মা ও অনাগত শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই আগেভাগে পরীক্ষা করে নেওয়া নিরাপদ সিদ্ধান্ত।.

 .

 .

৫. ব্লাড সুগার ও হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা.

 .

 .

ডায়াবেটিস, রক্তাল্পতা বা পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। সুস্থ গর্ভধারণ ও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।.

 .

 .

পুরুষদের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা.

 .

 .

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় কেবল নারীর স্বাস্থ্য নয়, পুরুষের স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ—এ বিষয়টি এখন বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলছেন চিকিৎসকেরা।.

 .

 .

১. বীর্য পরীক্ষা (সিমেন অ্যানালিসিস).

 .

 .

শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি ও গঠন স্বাভাবিক কি না, তা জানার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। স্বাভাবিক গর্ভধারণে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।.

 .

 .

২. হরমোন টেস্ট.

 .

 .

টেস্টোস্টেরনসহ অন্যান্য হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার। হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে শুক্রাণু উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে।.

 .

 .

৩. ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ.

 .

 .

লাইফস্টাইলজনিত রোগ— যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপ প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাও অবহেলা করা উচিত নয়।.

 .

 .

৪. যৌন সংক্রমণ পরীক্ষা.

 .

 .

সেক্সচুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এতে ভবিষ্যতে দম্পতির মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।.

 .

 .

সচেতন প্রস্তুতিই নিরাপদ আগামীর চাবিকাঠি.

 .

 .

সন্তান পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে আনন্দের, তবে দায়িত্বও কম নয়। আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিলে বাড়ে আত্মবিশ্বাস, কমে অযথা উদ্বেগ। সবচেয়ে বড় কথা, সম্ভাব্য জটিলতা অনেকটাই এড়ানো যায়।.

 .

 .

চিকিৎসকদের পরামর্শ একটাই, ‘সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে একবার প্রি-কনসেপশন চেকআপ করান।’ কারণ, অসুখ বা ঝুঁকি সময়মতো ধরা পড়লে সমাধানও হয় সহজ, আর নতুন জীবনের শুরুটা হয় আরও নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত।.

 .

 .

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন. .

Ajker Bogura / তাহমিদ জাওয়াদ

লাইফস্টাইল বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ