• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ২৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

ঈদে বগুড়ায় রেকর্ড প্রায় শত কোটি টাকার দই বিক্রি


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:০৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী জেলা বগুড়া বহুদিন ধরেই “দইয়ের নগরী” হিসেবে দেশ-বিদেশে সুপরিচিত। প্রাচীনকাল থেকে এখানে তৈরি দইয়ের স্বাদ, ঘনত্ব এবং বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে এটি পেয়েছে আলাদা মর্যাদা। সময়ের সাথে সাথে এই ঐতিহ্য শুধু টিকে থাকেনি, বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও।
বগুড়া দইয়ের এই স্বীকৃতি আনুষ্ঠানিক রূপ পায় ২০২৩ সালের ২৬ জুন, যখন এই ঐতিহ্যবাহী পণ্যটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি লাভ করে। এর ফলে বগুড়ার দইয়ের নিজস্বতা ও মান সুরক্ষিত হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে।
এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বগুড়ার দই ও মিষ্টির বাজারে দেখা গেছে অভূতপূর্ব চাহিদা। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দই ও মিষ্টির দোকানগুলোতে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় শত কোটি টাকার দই ও মিষ্টি বিক্রি হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে এক বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষ করে শহরের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান এশিয়া সুইট মিট ও দইঘর-এ ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের দই ও মিষ্টির নির্ধারিত দাম অনুযায়ী বিক্রি হয়েছে—স্পেশাল দই ৩৪০ টাকা, শাহী দই ৪০০ টাকা, সাদা দই ৩০০ টাকা, টক দই ২০০ টাকা, বড় ক্ষীরসা ৭০০ টাকা, ছোট ক্ষীরসা ৩৫০ টাকা এবং হাড়ি দই ৫০০ টাকা। প্রতিটি পণ্যের আলাদা স্বাদ ও গুণগত মান ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেছে।
শুধু শহরেই নয়, বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলাজুড়ে বর্তমানে সহস্রাধিক দইয়ের দোকান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বগুড়া শহর ও আশপাশ এলাকায় রয়েছে তিন শতাধিক দোকান, যেখানে প্রতিদিনই উৎপাদন ও বিক্রি চলছে ব্যাপক হারে। ঈদকে কেন্দ্র করে এসব দোকানে উৎপাদন বাড়ানো হয় কয়েকগুণ, যাতে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যায়।
বগুড়ার দই শিল্পের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। গৌর গোপাল পাল, নবাব পরিবার, মহরম আলী, রফাত আলীর মতো পথিকৃৎদের হাত ধরে এই শিল্প ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে। তাদের উদ্ভাবিত প্রক্রিয়া, মান নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাদের ধারাবাহিকতা আজও বজায় রেখেছেন বর্তমান প্রজন্মের ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের মতে, ঈদ, পূজা কিংবা যেকোনো উৎসবেই বগুড়ার দই যেন অপরিহার্য একটি অংশ। প্রবাসীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই সময় বগুড়ায় এসে দই কিনে নিয়ে যান, আবার অনেকেই অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার করেন। ফলে ঈদ মৌসুমে এই শিল্প শুধু ঐতিহ্যের প্রতীকই নয়, বরং একটি বড় অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঐতিহ্য, স্বাদ ও আস্থার সমন্বয়ে বগুড়ার দই এবারও ঈদের আনন্দকে আরও মধুর করে তুলেছে, আর সেই সঙ্গে সৃষ্টি করেছে নতুন এক বাণিজ্যিক রেকর্ড।.

.

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ