• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

কানাডায় নেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিল ৩৮ লাখ টাকা, নিঃস্ব ২ পরিবার


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৩৫ পিএম
ভুক্তভোগী দুই যুবক, ইনসেটে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন আলতাফ। ছবি : সংগৃহীত
ভুক্তভোগী দুই যুবক, ইনসেটে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন আলতাফ। ছবি : সংগৃহীত

প্রথমে লোভনীয় বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে মোটা টাকার চুক্তি। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও হাতে হাতে নেওয়া হয় সেই চুক্তির ৩৮ লাখ টাকা। এরপর ভুক্তভোগীদের হোটেলে আটকে রেখে নেওয়া হয় অতিরিক্ত আরও এক লাখ টাকা করে। হাতে তুলে দেওয়া হয় ভুয়া কানাডার ভিসা। অনলাইনে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় কানাডার ভিসাটি ভুয়া।.

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কালিয়ানী গ্রামের আবু সায়েমের ছেলে আলসাবা রাতুল ও হাবিবুর রহমানের ছেলে শাকিল হোসেনের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। জমি-জায়গা সব বিক্রি-বন্ধক রেখে নিঃস্ব হয়ে এখন বিচারে আশায় পথে পথে ঘুরছে ভুক্তভোগী দুই পরিবার। এ নিয়ে ঝিকরগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে তারা।.

জানা গেছে, একই গ্রামের মৃত আবু তালেব মোড়লের ছেলে নাসির উদ্দিন আলতাফ ও তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। বিদেশে পাঠানোর নাম করে স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে ঢাকাতে ভুয়া নামে ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করেন। আর এ এজিন্সের নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।.

ভুক্তভোগী আলসাবা রাতুল বলেন, দালাল নাসির উদ্দিন আলতাফ ২০২৪ সালের মার্চ মাসে নেপালে নিয়ে যায়। সেখানে কানাডার এমবাসিতে নিয়ে ইন্টারভিউসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে এক সপ্তাহ পরে দেশে পাঠিয়ে দেন। দ্বিতীয়বার গিয়ে নেপালে একটি হোটেলে দুই মাস আটকে রাখে। আমাদের চুক্তি ছিল ১৯ লাখ টাকা করে নেবে। হোটেলে আটকে রেখে বাড়িতে ফোন দিয়ে চুক্তি বাদে আরও এক লাখ করে টাকা নেন। এরপরে কানাডার ভিসা লাগানোর পাসপোর্ট হাতে দিয়ে ওই দিন দালাল নাসির উদ্দিন আলতাফ কুয়েতে পালিয়ে যায়।.

তিনি আরও বলেন, পরে বুঝতে পারি এটা কোনো কানাডার এমবাসি ছিল না। তারা একটি এমবাসি অফিস বানিয়ে সেখানে নিয়ে কাগজপত্র জমা নেন এবং ইন্টারভিউ নেন। যাতে আমরা সন্দেহ না করি। আমাদের যখন পাসপোর্ট হাতে দেয় দালাল, তখন দেখি পাসপোর্ট খোলা। পরে দেশে এসে পাসপোর্ট অনলাইনে যাচাই-বাছাই করে দেখি এটা ভুয়া কানাডার ভিসা।.

আলসাবা রাতুলের বাবা আবু সায়েম বলেন, একটা সুন্দর জীবনের আশায় জমি বন্ধক ও ধানের উপরে সুদ করে ১৯ লাখ টাকা দিয়েছি দালাল আলতাফকে। সুদের টাকা দিতে দিতে আজ আমি পথের ফকির। বছরে দুবার আড়াই লাখ করে পাঁচ লাখ টাকা সুদ দিতে হচ্ছে। আজ আমি নিঃস্ব।.

আরেক ভুক্তভোগী শাকিল হোসেনের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, নাসির উদ্দিন আলতাফ আমার আপন ফুফাতো ভাই। তারা স্বামী-স্ত্রী লোক পাঠানোর (আদম) ব্যবসা করে। আলতাফ একদিন এসে বলল, ভাই আমার তো ছেলে নেই। আপনার ছেলে মানেই আমার ছেলে। ছেলের জন্য একটা ভালো চাকরি আছে কানাডায়। ছেলেকে কানাডায় পাঠিয়ে দেন।.

তিনি আরও বলেন, নাসির উদ্দিন আলতাফের কথায় বিশ্বাস করে আমার দোকানপাট, জমি-জায়গা, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি সব বিক্রি করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সাতবারে ১৯ লাখ টাকা দিয়েছি। আজ আমার আপনজন আমাকে বড় ক্ষতি করল। পথে বসাল। আমি এর বিচার চাই।.

অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন আলতাফ কালবেলাকে বলেন, কানাডার ভিসাটা ভুয়া ছিল না, সঠিক ছিল। তারা পড়াশোনা জানে না। তারা ভিসার কী বোঝে। অনলাইনে চেক দিলে কি সব সময় বোঝা যায় কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুয়া।.

৩৮ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আবু সায়েমের ছেলে আলসাবা রাতুল ও হাবিবুর রহমানের ছেলে শাকিল হোসেনকে পাঠানোর জন্য তারা দুজনে আমাকে আনুমানিক ২০ লাখে মতো টাকা দিয়েছেন। আসলে কত টাকা নিয়েছি এখনো ওদের টাকা হিসাব করা হয়নি।.

ঝিকরগাছা থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, কানাডায় পাঠানোর নামে ভুয়া ভিসা দেওয়ার একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। গ্রামের সহজ সরল মানুষকে টার্গেট করে মানব পাচার চক্রের সদস্যরা। ভালো চাকরি লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।.

.

Ajker Bogura / মো: সাইমুম জাহান

সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ