বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের নওদাবগা গ্রামে অবস্থিত দুটি ঐতিহাসিক মসজিদ প্রায় চার শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে আছে বাংলার ধর্মীয় ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এই মসজিদ দুটি নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী জমিদার দুই ভাই আনোয়ার আকন্দ ও জালাল আকন্দ। বলা হয়, দুই ভাই আলাদা আলাদা মসজিদে নামাজ আদায় করতেন, আর সেখান থেকেই এলাকাটি পরিচিতি পায় “জোড়া মসজিদ” নামে। যুগের পর যুগ ধরে এই মসজিদ দুটি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে।.
স্থাপত্যের দিক থেকেও এই জোড়া মসজিদ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাচীন ইটের নির্মাণশৈলী, খিলান, গম্বুজাকৃতির ছাদ এবং সূক্ষ্ম কারুকাজ মধ্যযুগীয় বাংলার ইসলামী স্থাপত্যরীতির পরিচয় বহন করে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই ধরনের মসজিদগুলো মুঘল আমলের প্রভাবিত গ্রামীণ স্থাপত্যের একটি বিরল উদাহরণ, যা স্থানীয় কারিগরদের দক্ষতা ও তৎকালীন ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায়। একসময় এই মসজিদকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সামাজিক ও ধর্মীয় নানা কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো।.
তবে সময়ের প্রবাহে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সংরক্ষণ বা সংস্কার না হওয়ায় দেয়ালে ফাটল, ইট ক্ষয়, ছাদের ক্ষতিসহ নানা ধরনের কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে ক্ষয়প্রক্রিয়া আরও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, যা এই চার শতাব্দী প্রাচীন নিদর্শনের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এই ঐতিহাসিক মসজিদগুলো চিরতরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।.
এলাকাবাসী, গবেষক ও ইতিহাস অনুরাগীরা এই জোড়া মসজিদকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সঠিক সংস্কার ও সংরক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে এই মসজিদগুলো শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবেই নয়, বরং ঐতিহাসিক ও পর্যটন সম্পদ হিসেবেও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শতাব্দীপ্রাচীন এই স্থাপত্য নিদর্শন সংরক্ষণ করা মানে কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং বাংলার ইতিহাসের একটি জীবন্ত অধ্যায় রক্ষা করা।. .
Ajker Bogura / ডেস্ক রিপোর্ট
আপনার মতামত লিখুন: