ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার জেরে নবঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ৬ নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।
জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীর স্বাক্ষরে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ৮ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের তালিকায় সুজনের নাম রয়েছে। যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলনের দায়ের করা মামলায় তিনি ২৫ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বিষয়টি তদন্ত করছে। এমন পরিস্থিতিতে হামলার মামলার এক আসামির নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয় দাবি করে কমিটির ৬ সদস্য শনিবার পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাদের অভিযোগ, নেত্রীর ওপর হামলার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ দেওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে গাজী এনামুল হক সুজন বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, সুজন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও সক্রিয় কর্মী। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং বিষয়টি জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত আছেন। অন্যদিকে পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী বলেন, সুজনের মামলার বিষয়টি আগে বিস্তারিতভাবে জানা ছিল না। কমিটির সদস্যদের পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ ১৭৮ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলাটি ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ফেনী সদর আমলি আদালত আমলে নেয়। এরপর থেকেই মামলাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে তদন্ত চলমান থাকায় নতুন করে দলীয় পদায়নকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড যুবদলের ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: