বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চকবোচাই গ্রামের মেয়ে শারমিন সুলতানা। স্থানীয়ভাবে ‘গাবতলীর আলোকিত সন্তান’ হিসেবে পরিচিত এই নারী ক্রিকেটার নিজের ক্রিকেট প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে।.
শারমিন সুলতানা একজন ডানহাতি ব্যাটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৯৩ সালে বগুড়ায়। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ নারী দলের হয়ে তিনি ১৩টি ওয়ানডে খেলেছেন এবং করেছেন ১১৫ রান; ওয়ানডেতে তাঁর সর্বোচ্চ ইনিংস ২৭ রান।.
২০১৮ সালে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে আসে ঐতিহাসিক সাফল্য। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক আসরের বাংলাদেশ দলে ছিলেন শারমিন সুলতানাও। একই বছর তিনি বাংলাদেশ দলের হয়ে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের স্কোয়াডেও ছিলেন।.
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর পথচলা ২০১৯ সালে শেষ হলেও ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমের বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট লিগের দলীয় তালিকাতেও শারমিন সুলতানার নাম রয়েছে।.
চকবোচাইয়ের মতো একটি স্থানীয় জনপদ থেকে উঠে এসে জাতীয় দলের জার্সি পরা শারমিনের গল্প তাই শুধু ক্রিকেটের গল্প নয়; এটি প্রত্যন্ত এলাকার মেয়েদের স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অনুপ্রেরণার গল্প।.
গাবতলীর মানুষদের কাছে শারমিন সুলতানার জাতীয় দলের হয়ে খেলা নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। তাঁর ক্রিকেটযাত্রা প্রমাণ করে—প্রতিভা, সুযোগ ও অধ্যবসায় একসঙ্গে থাকলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।.
চকবোচাই থেকে জাতীয় দলের জার্সি—শারমিন সুলতানার এই পথচলা গাবতলীর ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অনুপ্রেরণার অধ্যায়।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: