• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বিশ্বে তেল-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:১৫ এএম
বিশ্বে তেল-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
প্রতীকী ছবি

যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: বিশ্বে ‘তেল-শূন্য’ প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ.

ডেস্ক রিপোর্ট:.

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ৩৩ দিনে গড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে।.

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম The Independent-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রথম ‘তেল-শূন্য’ দেশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (১ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল।.

ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকটের প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাম্পে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতেও যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।.

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি-এ অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। এই পথ বন্ধ বা সীমিত হলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।.

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপসহ একাধিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। ডিজেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। যদিও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিছু বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।.

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের পূর্বাঞ্চলের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ অপরিশোধিত তেলের মজুত সীমিত পর্যায়ে রয়েছে, যা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। একইভাবে ডিজেল ও অকটেনের মজুতও দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। মার্চের শুরুর হিসাব অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের মজুত ছিল মাত্র ৯ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো।.

সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।.

যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করছে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।. .

Ajker Bogura / তাহমিদ জাওয়াদ

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ