• ঢাকা
  • সোমবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

“ভিউয়ের জন্য অশ্লীলতা” — বগুড়ায় কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক কনটেন্টে ক্ষোভ, সামাজিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:০৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক নতুন ধরনের “ভিউ ব্যবসা”, যেখানে সস্তা জনপ্রিয়তা আর অর্থ উপার্জনের আশায় কিছু ব্যক্তি অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও নোংরা ভাষাকে কনটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করছেন। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, এসব কনটেন্ট শুধু অনলাইন পরিবেশকেই নষ্ট করছে না, বরং কিশোর-তরুণদের নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ ধ্বংসের দিকেও ঠেলে দিচ্ছে।.

এমনই এক আলোচিত নাম “Razib Hosin Somon” নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক পেজ, যেখানে প্রায় ২ লাখ ৫৭ হাজার ফলোয়ার রয়েছে বলে জানা গেছে। সমালোচকদের দাবি, নিজের নামের সঠিক বানান পর্যন্ত ব্যবহার না করা ওই ব্যক্তি নিয়মিত অশ্লীল ভাষা, ডাবল মিনিং সংলাপ, কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি ও বেহায়াপনামূলক ভিডিও আপলোড করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে আপত্তিকর ভঙ্গি ও নোংরা ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তার মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করেন, যা মূলত ভিউ বাড়ানো ও ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়।.

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো— এসব ভিডিও শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই নয়, শিশু, কিশোর-কিশোরী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী মানুষ প্রতিনিয়ত দেখছে। এতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিকৃত রুচি, অসামাজিক আচরণ ও অশালীনতাকে স্বাভাবিক মনে করার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষকেরা।.

সমাজ সচেতন নেটিজেনদের অভিযোগ, এই ধরনের কনটেন্ট নির্মাতারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভিত্তিহীন ও বাজে মন্তব্য করে বিতর্ক তৈরি করেন, কারণ বিতর্ক মানেই বেশি রিচ, বেশি ভিউ এবং বেশি আয়। তাদের মতে, এটি কোনো সুস্থ বিনোদন নয়; বরং অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে এক ধরনের ডিজিটাল অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া।.

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি এখন অশ্লীলতা প্রচারের জায়গা হয়ে যাচ্ছে? যেখানে শিক্ষামূলক, সৃজনশীল বা ইতিবাচক কনটেন্টের চেয়ে কুরুচিপূর্ণ আচরণ বেশি ভাইরাল হচ্ছে?
সচেতন মহলের দাবি
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়াবহ নৈতিক সংকটে পড়বে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।.

যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি.

১:অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাইবার নজরদারি বৃদ্ধি।
২:ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রচলিত আইনের আওতায় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩:শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন।
৪:ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে স্থানীয় ভাষার কনটেন্ট মনিটরিং আরও শক্তিশালী করা।
৫:স্কুল-কলেজে ডিজিটাল সচেতনতা ও অনলাইন নৈতিকতা শিক্ষা চালু করা।
৬:অভিভাবকদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আরও সচেতন হওয়া।
৭:ইতিবাচক, শিক্ষামূলক ও সংস্কৃতিমনস্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের উৎসাহ দেওয়া।.

বিশেষজ্ঞদের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই সমাজ ধ্বংসের স্বাধীনতা হতে পারে না। ভিউ আর ফলোয়ারের লোভে যদি অশ্লীলতা ও নোংরামিকে “কনটেন্ট” বানানো হয়, তাহলে তা শুধু অনলাইন পরিবেশ নয়, পুরো সমাজব্যবস্থার জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।.

বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন এ ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বাড়ছে। সচেতন মানুষ মনে করছেন, সুস্থ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে এখনই এই ডিজিটাল অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনি প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।.

- স্টাফ রিপোর্টার - সামসিল আরিফিন. .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

গণমাধ্যম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ