• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০৫ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

দেশে শনাক্ত অচেনা ভাইরাস, জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে আশঙ্কা


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

দেশে সম্প্রতি যে রহস্যজনক পিআরভি রোগ শনাক্ত হয়েছে, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল এটি নিপাহ ভাইরাসের কারণে ছড়াচ্ছে। তবে নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, এই রোগটি নিপাহ নয়। এটি বাদুড় থেকে ছড়ানো একটি নতুন ধরনের ভাইরাসের কারণে হয়েছে, যা মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে।.

গবেষণায় জানা যায়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে বাংলাদেশে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের উপসর্গের মধ্যে ছিল জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখে বেশি লালা জমা হওয়া এবং বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যা। এই পাঁচজনই খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন। খেজুরের এই কাঁচা রস বাদুড়ও খায়, আর এটি নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর একটি পরিচিত মাধ্যম।.

তবে পরীক্ষায় দেখা যায়, আক্রান্ত কোনো রোগীর শরীরেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নেই। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর সবাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তিনজন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন। তাদের মধ্যে ছিল তীব্র দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, শ্বাস নিতে কষ্ট এবং হাঁটাচলায় অসুবিধা। এই তিনজনের একজন ২০২৪ সালে মারা যান, যদিও তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট স্নায়বিক কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।.

সর্বশেষ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, এই রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটি হলো প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি)। এটি একটি বাদুড়বাহিত ভাইরাস, যা মানুষের শরীরে গুরুতর শারীরিক ও স্নায়বিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।.

গবেষকদের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এই ভাইরাসটি ভবিষ্যতে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আরও বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন ধরনের জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।.

এ কারণে বিজ্ঞানীরা খেজুর গাছ থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা রস পান না করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি রোগ নজরদারি জোরদার করা, দ্রুত গবেষণা চালানো এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।. .

Ajker Bogura / Samsil Arifin

স্বাস্থ্য বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ