বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কাছে ২ লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুত আছে, যা দিয়ে ১৪ দিন পর্যন্ত চলা সম্ভব। এছাড়া, ২১ হাজার ৭০৫ টন পেট্রোল, ৩৪ হাজার ১৩৩ টন অকটেন এবং ২০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ জেট ফুয়েল মজুত আছে।.
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করায় জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে প্রয়োজনীয় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জ্বালানি পণ্যের আমদানি মূল্য তাৎক্ষণিক পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।.
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি মার্চ মাসে স্পট মার্কেট থেকে কমপক্ষে চার কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। যদিও চলতি মাসে সরকারের স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না।.
সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিস্তৃত হওয়ায় ৩ মার্চ মঙ্গলবার জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি ও বেসরকারি খাতের জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, হুরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকা এবং কাতার এনার্জি উৎপাদন বন্ধ রাখায় কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যে এলএনজি পাওয়ার কথা ছিল, সেটি না পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।.
প্রধানমন্ত্রীকে আরও জানানো হয়, ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এই মাসে দুই কার্গো এলএনজি সরবরাহ করার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাড়তি আরও দুই কার্গো দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু পুরো মাসের চাহিদা মেটাতে কমপক্ষে ৮ কার্গো এলএনজি প্রয়োজন।.
জ্বালানি বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী স্পট মার্কেট থেকে প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানির নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির মূল্য যাতে তাৎক্ষণিক পরিশোধ করা যায়, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের এলপিজি আমদানিতেও যাতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করা হয়, সে বিষয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।'.
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পেট্রোবাংলা অতি দ্রুত ২ কার্গো এলএনজি স্পট মার্কেট থেকে আমদানির জন্য টেন্ডার আহ্বান করবে। বাকি ২ কার্গোর টেন্ডার আরও কিছুদিন পরে আহ্বান করা হবে।.
গ্যাস সরবরাহের চিত্র.
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন ২৬০০ এমএমসিএফডি থেকে ২৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করে সরকার। এর মধ্যে ৯০০ থেকে ৯৮০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয় আমদানি করা এলএনজি থেকে। এজন্য বছরে ১১০ থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হয়। .
এই আমদানির বড় অংশ (৬০ থেকে ৭০ কার্গো) আসে কাতার ও ওমানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। বাকি চাহিদা মেটানো হয় স্পট মার্কেট থেকে। সর্বশেষ ৩ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৬৬২ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এরমধ্যে আমদানি করা এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ৯৫২ এমএমসিএফডি গ্যাস।.
জ্বালানি তেলের মজুত ও বিকল্প উৎস.
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কাছে ২ লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুত আছে, যা দিয়ে ১৪ দিন পর্যন্ত চলা সম্ভব। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বিকল্প দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া, চীন ও সৌদি আরবের সাথে আলোচনা চলছে। এছাড়া ভারত থেকে আসা পরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। সৌদি আরামকো জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের বাইরের উৎস থেকে বাংলাদেশকে তেল সরবরাহ করবে।.
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ৩ মার্চ পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ১৬ হাজার ১০ টন ডিজেল, ২১ হাজার ৭০৫ টন পেট্রোল এবং ৩৪ হাজার ১৩৩ টন অকটেন মজুত রয়েছে। এছাড়া পদ্মা অয়েলের কাছে ২০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ জেট ফুয়েল মজুত আছে। বর্তমানে উড়োজাহাজ চলাচল কম থাকায় জেট ফুয়েলের চাহিদা কিছুটা কম।.
বেসরকারি খাতের এলপিজি পরিস্থিতি.
জ্বালানি বিভাগ আরও জানিয়েছে, বেসরকারি আমদানিকারকদের ফেব্রুয়ারি মাসে খোলা এলসি অনুযায়ী মার্চ মাসে ১ লাখ ৯৪ হাজার টন এলপিজি দেশে আসার কথা। তবে হুরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে কিছু এলপিজি সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতকে বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।. .
Ajker Bogura / Md Shourov Hossain
আপনার মতামত লিখুন: