ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর শাহাদাত এবং ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি যৌথ আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রোববার (১ মার্চ) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন।.
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় ও আপসহীন কণ্ঠস্বর ছিলেন। জীবনের পুরো সময়জুড়ে তিনি নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে তিনি ছিলেন সাহসী ও নির্ভরযোগ্য কণ্ঠ। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে ন্যায়ের আওয়াজ স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা। তবে মাতৃভূমি রক্ষায় সংগ্রামরত অবস্থায় তাঁর শাহাদাত প্রমাণ করে—সত্যের পথে যারা অবিচল, তারা কখনো মাথা নত করে না।.
নেতারা আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে যে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন, চলমান হামলা তারই প্রতিফলন। তাদের দাবি, আকস্মিক মার্কিন–ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।.
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তারা বলেন, হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি খামেনির পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।.
বিশেষ করে দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় বহু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর দাবি তুলে এটিকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেন তারা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা বিশ্বসভ্যতা ও মানবতার জন্য গভীর হুমকি।.
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যে আধিপত্যবাদী নীতি অনুসরণ করছে, তা বিশ্বশান্তিকে বিপন্ন করে তুলছে। ফিলিস্তিনে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন এবং ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলাকে একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা। তাদের মতে, খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়ার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা ব্যর্থ হবে; বরং এই ঘটনা নতুন করে প্রতিবাদের শক্তি জোগাবে।.
নেতৃবৃন্দ বলেন, শিশু ও নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা বিশ্বকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্বশান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবিলম্বে সামরিক হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে ইরানে বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।.
সবশেষে, এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ নিহত সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ।. .
Ajker Bogura / ডেস্ক রিপোর্ট
আপনার মতামত লিখুন: