শেরপুর পৌরসভা-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কারও ৩০ মাস, আবার কারও প্রায় ৫৬ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে গত ২৭ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে পৌরসভার দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং নাগরিক সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার বিভিন্ন নিজস্ব আয়ের খাত থেকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আসলেও সেই অর্থ থেকে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন বলেও দাবি করেন অনেক কর্মচারী।
ঐতিহ্যবাহী এই পৌরসভাটি ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে আর্থিক সংকট ও দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের বকেয়া রয়েছে বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী কর্মচারীরা জানান, স্বল্প আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে বছরের পর বছর বেতন না পাওয়ায় তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই সন্তানের পড়াশোনা ও বাসাভাড়া চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।.
Ajker Bogura / TMN
আপনার মতামত লিখুন: