বৈশাখের তীব্র দাবদাহে জর্জরিত সারাদেশ। প্রখর রোদ আর গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে সূর্যের তাপ যেন আগুনের গোলার মতো ঝরছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ ও জরুরি কাজে বাইরে বের হওয়া সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।.
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ২১টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ফরিদপুরে ৩৬, মাদারীপুরে ৩৬.২, ফেনীতে ৩৬, লক্ষ্মীপুরে ৩৭, রাজশাহীতে ৩৭.৩, পাবনায় ৩৬.২ এবং সিরাজগঞ্জে ৩৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।.
খুলনা বিভাগের সব জেলাতেই তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে, যেখানে তাপমাত্রা ৩৬.২ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছায়, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ।.
আবহাওয়াবিদদের মতে, তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ ডিগ্রি হলে তা মৃদু, ৩৮-৪০ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪০-৪২ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির ওপরে গেলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।.
তবে স্বস্তির বার্তাও রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে, যা তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক হবে। শুক্রবার রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে দমকা হাওয়া, বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।.
শনিবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, ফলে ধীরে ধীরে কমে আসবে তাপমাত্রা।.
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, চলতি মাসে আরও কয়েক দফা তীব্র তাপপ্রবাহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।. .
Ajker Bogura / DR SA
আপনার মতামত লিখুন: