যশোরে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার কারণে মোটরসাইকেল বাজারে চরম মন্দা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ডিলারদের দাবি, প্রতি ঈদে সাধারণ সময়ের তুলনায় বিক্রি দ্বিগুণ হওয়ার কথা থাকলেও এবারের ঈদে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ঈদের পর গত ১০ দিনে পুরো জেলায় মাত্র একটি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা। যশোর ভেনাস অটোর স্বত্বাধিকারী আবু শাহরিয়াদ মিতুল জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তাদের ২০০টি মোটরসাইকেল বিক্রির লক্ষ্য ছিল, কিন্তু বিক্রি হয়েছে মাত্র ১১০টি। যেখানে সাধারণ মাসে ৮০-১০০টি বিক্রি হয়, সেখানে ঈদের পরবর্তী সময়ে এই ভয়াবহ পতন নজিরবিহীন। শুধু বিক্রি নয়, সার্ভিসিং খাতেও ধস নেমেছে। অন্য ডিলাররাও একই চিত্র তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ হারাচ্ছে। তেল কিনতেই যেখানে বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে, সেখানে নতুন বাইক কেনার আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই কমে গেছে। মোটরসাইকেল চালক ও মেকানিকদের ওপরও এর প্রভাব পড়েছে। বাইকাররা তেল সংকটের কারণে কম বের হচ্ছেন, ফলে গ্যারেজে কাজ কমে গেছে। অনেক মেকানিক আয় সংকটে পড়েছেন এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক বাইকের দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। কম খরচ, সহজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং জ্বালানির ঝামেলা না থাকায় ই-বাইক এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শোরুম মালিকদের মতে, আগে যেখানে মাসে ১০-১৫টি ইলেকট্রিক বাইক বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি বেড়ে ২৫-৩০টিতে পৌঁছেছে। বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, তেল পেতে বৈধ কাগজপত্র লাগবে—এমন গুঞ্জনের কারণে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনও বেড়েছে। গত তিন দিনে রেজিস্ট্রেশন আবেদন পড়েছে ২২৭টি এবং লার্নার লাইসেন্সের আবেদন হয়েছে ১৪৫টি। সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকটের প্রভাবে যশোরের মোটরসাইকেল বাজারে একদিকে মন্দা, অন্যদিকে ইলেকট্রিক বাইকের দিকে ঝোঁক—এই দ্বৈত চিত্র এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: