• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৩১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

জ্বালানি ঝুঁকি মোকাবিলায় কারখানাগুলো ঝুঁকছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে, সক্ষমতা ছাড়াল ৫০০ মেগাওয়


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৩৯ এএম
জ্বালানি ঝুঁকি মোকাবিলায় কারখানাগুলো ঝুঁকছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে, সক্ষমতা ছাড়াল ৫০০ মেগাওয়

দেশের অন্যতম শীর্ষ কম্পোজিট পোশাক প্রস্তুতকারক রাইজিং গ্রুপ দুই বছর আগেও সমানভাবে গ্রিডের বিদ্যুৎ ও নিজস্ব উৎপাদিত (ক্যাপটিভ) বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌর স্থাপনা (রুফটপ সোলার) থেকে নিজস্ব চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সংগ্রহ করছে। এই সুবাদে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে পেরেছে, বিশেষত শিল্পে গ্যাস সরবরাহে সংকটের মধ্যে।.

একইভাবে প্যাসিফিক জিন্স চার বছর আগে ৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সোলার সিস্টেম স্থাপন করে, যা এখন তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১২ শতাংশ পূরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর।.

বাংলাদেশের শিল্পখাতে সৌরবিদ্যুতের দিকে বিস্তৃত এক প্রবণতার প্রতিফলন এসব প্রতিষ্ঠান। বৈশ্বিক সবুজ মানদণ্ড (গ্রিন কমপ্লায়েন্স) প্রচারণার প্রভাবে শুরু হওয়া এই ধারা এখন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটের মতো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আংশিক সুরক্ষা দিচ্ছে।.

গ্যাস সংকট, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা এবং বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন কারখানায় ইতোমধ্যে ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপন করা হয়েছে।.

সোলার ডেভেলপাররা আশা করছেন, বৈশ্বিক ক্রেতাদের থেকে কার্বন নির্গমন কমানোর চাপ এবং গ্রিড বিদ্যুতের বাড়তি দামের কারণে চলতি বছর আরও ৫০০ মেগাওয়াট সৌর সক্ষমতা যুক্ত হবে।.

গত এক বছরে এই প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে এবং এখন এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে করে, দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত করতে পারে—যা বাংলাদেশের জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তেল আমদানির একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।.

যদিও ছাদ সৌরবিদ্যুৎ সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করতে পারে না, তবে এটি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা উৎপাদন চালু রাখতে পারে। পাশাপাশি মোট বিদ্যুতের ১৫-২০ শতাংশ সরবরাহ করে পণ্য উৎপাদনকালে ব্যয়বহুল বিঘ্ন কমাতে সাহায্য করে।.

ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার বলেন, "নির্গমন কমাতে বৈশ্বিক ক্রেতাদের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি—বিশেষ করে রুফটপ সোলার—বাস্তবসম্মত বিকল্পগুলোর একটি।".

ডিবিএল গ্রুপ ইতোমধ্যে ৫.৪ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা স্থাপন করেছে। চলতি বছরে আরও ১.৫ মেগাওয়াট সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।.

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল এনালাইসিস (আইইইএফএ)- এর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিকভাবে লাভজনক হওয়ায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে, কারণ এর খরচ গ্রিড বিদ্যুতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।.

টিবিএস-কে তিনি বলেন, "আমাদের এই গতি ধরে রাখতে হবে এবং তা আরও বাড়াতে হবে।".

২০১৮ সালে নেট মিটারিং নীতিমালা চালুর পর শিল্পখাতে সৌরবিদ্যুৎ গ্রহণ বাড়তে শুরু করে, যা অতিরিক্ত উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ করে দেয়। এরপর থেকে সৌর স্থাপনাগুলো ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প উন্নয়নকারীরা।.

শিল্পখাতে ইতোমধ্যে ছাদ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে ইয়ংওয়ান গ্রুপ (কোরিয়ান ইপিজেডে ৪০ মেগাওয়াট), হামীম গ্রুপ, মাইক্রোফাইবার গ্রুপ, মাস্কো গ্রুপ, প্যাসিফিক জিন্স, ফকির নিটওয়্যারস, স্নোটেক্স, ডিবিএল গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, বিএসআরএম, বিআরবি কেবলস, জিপিএইচ ইস্পাত, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এবং কাজী ফার্মস-সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান।.

বর্তমানে আরও অনেক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চলছে।.

'আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও সাশ্রয়ী সমাধান'.

সুপারস্টার রিনিউয়েবলস-এর প্রধান নির্বাহী তোফায়েল আহমেদ টিবিএস-কে বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ৯০টি শিল্প কারখানার ছাদে সোলার প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেছে, যেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১০০ মেগাওয়াট। আরও ২৫টি প্রকল্প চলমান, যা ২৮ মেগাওয়াট সক্ষমতা যুক্ত করবে।.

তিনি বলেন, জ্বালানি অনিশ্চয়তার কারণে শিল্পখাতের গ্রাহকদের এবিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে। "সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক কারখানা গ্যাস সংকট, গ্রিড বিদ্যুতের অস্থিরতা এবং বাড়তি ট্যারিফের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের চাপ কম থাকা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেকসময়ই তাদের ব্যয়বহুল ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।".

ফলে শিল্পগুলো স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য জ্বালানি উৎস খুঁজছে, যেখানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠছে। ব্যয় ব্যবস্থাপনাও এর পেছনে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে জানান তোফায়েল।.

তিনি বলেন, "সৌরবিদ্যুৎ দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যয় কমায় এবং ২০-২৫ বছরের জন্য খরচ স্থিতিশীল রাখে। গ্রিড ও ডিজেলের তুলনায় এটি বেশি পূর্বানুমানযোগ্য ও সাশ্রয়ী সমাধান।".

সোলার স্থাপনের খরচ কমছে.

ওমেরা সোলারের প্রধান নির্বাহী মাসুদুর রহিম জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান গত দুই বছরে ১০০ মেগাওয়াটের বেশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা স্থাপন করেছে।.

তিনি বলেন, "আমরা শিল্পখাত থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি এবং ২০২৬ সালের মধ্যে আরও ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা স্থাপনের আশা করছি।" বর্তমানে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর নারায়ণগঞ্জ কারখানায় ২৩ মেগাওয়াটের রুফটপ সোলার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।.

মাসুদুর জানান, যন্ত্রপাতির খরচ কমে যাওয়ায় চাহিদা বাড়ছে। "দুই বছর আগে ১ মেগাওয়াট সক্ষমতা স্থাপনে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা লাগলেও এখন তা কমে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকায় নেমেছে।".

সোলারিক- এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক পরিচালক নাজনীন আক্তার জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ১৬২ মেগাওয়াট প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে এবং চলমান প্রকল্পগুলো থেকে আরও ৩৬ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।.

তিনি বলেন, "চলতি বছরে ৬০-৮০ মেগাওয়াট সক্ষমতা স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে আমাদের।".

স্কুব, অন্যতম আরেকটি সোলার সলিউশন্স প্রোভাইডার ২১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। যেগুলো ২৫৪.৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তাদের আরও ৪৩টি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যা ৯০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করবে বলে কোম্পানিটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।.

এ খাতে আরও কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তবে তাদের কার্যক্রমের পরিসর এই চারটি কোম্পানির তুলনায় তুলনামূলকভাবে ছোট।.

বিদ্যুতের দামও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়.

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক বিনিয়োগ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হওয়ায় কারখানার মালিকরা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছেন।.

যেমন একটি কারখানায় ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপনে প্রায় ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটা উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় করে।.

ওমেরা সোলারের মাসুদুর রহিম বলেন, একটি সৌর প্যানেলের আয়ুষ্কাল ২০ বছর (যদিও অনেক ক্ষেত্রে ২৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে) ধরে হিসাব করলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ ৩.৫ টাকার কম পড়ে, যেখানে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট প্রায় ৯.৭ টাকা।.

তিনি আরও জানান, একটি কারখানা মালিকের সৌর বিনিয়োগের রিটার্ন পেতে সর্বোচ্চ চার বছর সময় লাগে।.

বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের চাপ.

তোফায়েল আহমেদ বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্প—বিশেষ করে পোশাক ও টেক্সটাইল—বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছ থেকে তাদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোসহ টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার চাপের মুখে রয়েছে, যা ক্রমেই বাড়ছে।.

মাসুদুর রহিম বলেন, বাংলাদেশের কেবল এইচঅ্যান্ডএম মনোনীত কারখানাগুলোরই নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য এনার্জির প্রয়োজন হবে।.

তিনি বলেন, "অনেক বৈশ্বিক ব্র্যান্ড এখন তাদের সরবরাহকারীদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে বা বাধ্য করছে, যা কারখানাগুলোকে সৌর স্থাপনায় উদ্বুদ্ধ করছে।".

ফলে আগে অনাগ্রহী অনেক প্রতিষ্ঠান এখন সম্ভাব্যতা যাচাই, ছাদ মূল্যায়ন এবং বিনিয়োগ ফেরতের হিসাব নিয়ে কাজ শুরু করেছে। যেখানে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ব্যয় সাশ্রয়, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে।.

নিট মিটারিং ব্যবস্থায় উৎসাহ পাচ্ছেন কারখানা মালিকরা.

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ২০১৮ সালে নেট মিটারিং চালুর পর ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কারখানাগুলো অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিল সমন্বয়ের সুবিধা পাচ্ছে।.

এই পদ্ধতিতে একটি শিল্প কারখানা তার নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে। দিনে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে মেশিন, লাইট এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালানো হয়, আর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।.

বিলিং চক্র শেষে নিট বা প্রকৃত ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করা হয়। যেমন, কোনো কারখানা যদি গ্রিড থেকে ১,০০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেয় এবং ৩০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা গ্রিডে সরবরাহ করে, তাহলে তাকে মাত্র ৭০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টার বিল পরিশোধ করতে হয়।.

শিল্পখাতে অনুমোদিত লোডের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত রুফটপ সোলার স্থাপনের যে সীমা ছিল, তা প্রত্যাহার করাও বিনিয়োগে উৎসাহ জুগিয়েছে। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার এই সীমা তুলে দেওয়ায়, এখন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী যতখুশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপন করতে পারছে।.

শিল্পের চাহিদা বনাম সৌরবিদ্যুৎ.

আইইইএফএ-এর সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ আসে শিল্পখাত থেকে। বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি থাকায়—শিল্পখাত গ্রিড থেকে প্রায় ২,৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। এর মধ্যে যদি শিল্পখাত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে পায়, তাহলে তাদের গ্রিড বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।.

তবে সংস্থাটির প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, শিল্পখাতে ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ সক্ষমতা গড়ে উঠেছে। অনেক কারখানা নিজেদের উৎপাদিত বিদ্যুতের ওপরই বেশি নির্ভরশীল, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে গ্রিড বিদ্যুতের ব্যবহার খুবই সীমিত।.

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, যেসব কারখানা শুধুমাত্র সেলাই বা কাটিংয়ের কাজ করে, তাদের বিদ্যুৎ চাহিদা কম হওয়ায় ছাদভিত্তিক সোলার সিস্টেম থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে, যা গ্রিডে সরবরাহ করা যায়। অন্যদিকে ডাইং, ওয়াশিং ও স্পিনিংয়ের মতো বিদ্যুৎ-নির্ভর খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ মোট চাহিদার মাত্র ১০-১৫ শতাংশই পূরণ করতে পারে।.

শিল্পে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা.

ওমেরা সোলারের মাসুদুর রহিম বলেন, শুধু এইচঅ্যান্ডএম-এর মনোনীত কারখানাগুলোর জন্যই প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। অন্যান্য কারখানার চাহিদা যুক্ত হলে মোট প্রয়োজন দাঁড়ায় প্রায় ৪,০০০ মেগাওয়াট।.

সোলারিকের নাজনিন আক্তারও শিল্পখাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা প্রায় ৪,০০০ মেগাওয়াট বলে উল্লেখ করেন।.

তবে মাসুদুর জানান, শিল্প কারখানার বিদ্যমান ছাদের জায়গা ব্যবহার করে সর্বোচ্চ প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম—ফলে একটি বড় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।.

ডিবিএল গ্রুপের চিফ সাসটেইনেবিলিটি অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল্লাহ বলেন, ডাইং, ওয়াশিং ও স্পিনিংয়ের মতো উচ্চ বিদ্যুৎনির্ভর শিল্প শুধুমাত্র ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করতে পারে না।.

তিনি বলেন, "নেট-জিরো নির্গমন অর্জন করতে হলে কারখানার ছাদের বাইরেও যেতে হবে। যৌথ সৌর প্রকল্পের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত জমি পাওয়া গেলে তা এক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হবে।". .

Ajker Bogura / Md Shourov Hossain

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ