নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:নন্দীগ্রাম উপজেলার গ্রামীণ জনপদে এখন বদলে যাচ্ছে খাদ্যসংস্কৃতির চিত্র। যেখানে একসময় কেবল ভাত-ভর্তা, পিঠা-পুলি কিংবা চায়ের দোকানেই সীমাবদ্ধ ছিল আড্ডা, সেখানে এখন যোগ হয়েছে শহুরে ফাস্ট ফুডের রঙিন দুনিয়া। আধুনিকতার ছোঁয়ায় তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে গ্রামে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বার্গার, পিৎজা, চপ, ফ্রাইসহ নানা মুখরোচক খাবার।.
এই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উদ্বোধন হলো নান্দনিক ও ব্যতিক্রমধর্মী ‘পল্লী কুঠির’ রেস্টুরেন্ট। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করে খড় ও বাঁশ দিয়ে তৈরি কুঠিরের আদলে সাজানো হয়েছে পুরো রেস্টুরেন্টটি। বর্ণিল আলোকসজ্জা, ঝকঝকে পরিবেশ ও মনোরম সাজসজ্জা প্রথম দেখাতেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে। উদ্বোধনের দিন থেকেই তরুণ-তরুণী, পরিবার ও শিশু-কিশোরদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।.
‘পল্লী কুঠির’ যেন গ্রামীণ আবহে শহুরে স্বাদের এক অপূর্ব সমন্বয়। এখানে গ্রামবাংলার চিরচেনা খাবারের পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক ফাস্ট ফুডের বিস্তৃত আয়োজন। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে মানসম্মত উপকরণ দিয়ে তৈরি খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে যত্নসহকারে।.
স্থানীয়রা জানান, আগে শহরে গিয়ে যে খাবারের স্বাদ নিতে হতো, এখন তা হাতের কাছেই পাওয়া যাচ্ছে। কম খরচে, পরিবার-পরিজন নিয়ে আরামদায়ক পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট।.
.
রেস্টুরেন্টটিতে পাঁচজন দক্ষ শেফ নিয়োজিত রয়েছেন, যারা আধুনিক রেসিপি অনুসরণ করে উন্নত মানের খাবার প্রস্তুত করছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের গুণগত মান রক্ষায় কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে সতর্ক।.
দর্শনার্থীরা জানান, শুধু খাবারের স্বাদই নয়, পরিবেশ ও আতিথেয়তাও তাদের মুগ্ধ করেছে। ফলে এটি ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের তরুণ সমাজের আড্ডাকেন্দ্র হয়ে উঠছে।.
.
রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম বলেন,নন্দীগ্রামে এই প্রথম এত উন্নত মানের ও নান্দনিক সাজসজ্জার একটি রেস্টুরেন্ট উদ্বোধন করা হলো। আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জাসহ প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয়ে এটি গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রেস্টুরেন্ট চালু হয়েছে। এখানে উন্নত মানের সব ধরনের খাবার পাওয়া যাবে। আমরা আশা করছি, নন্দীগ্রামবাসী এখন থেকে শহরে না গিয়েই এখানেই তাদের পছন্দের খাবারের স্বাদ উপভোগ করবেন।”.
.
‘পল্লী কুঠির’ শুধু একটি রেস্টুরেন্ট নয়—এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির অনুপ্রেরণা এবং গ্রামীণ এলাকায় আধুনিক সেবার প্রসার,সব মিলিয়ে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।.
গ্রামবাংলার সরলতা আর শহুরে আধুনিকতার সমন্বয়ে ‘পল্লী কুঠির’ এখন নন্দীগ্রামের গর্বের এক নতুন সংযোজন।. .
Ajker Bogura / মোঃ মামুন আহমেদ
আপনার মতামত লিখুন: