শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দ্য নেক্সট নিউজ-এর বিশেষ অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।.
হলের ক্যান্টিনের মালিক মো. শাহজাহান মিয়া জানান, জাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আরাফাত হোসাইন ইমন নিয়মিত ক্যান্টিনে খাবার গ্রহণ করলেও অনেক ক্ষেত্রে টাকা পরিশোধ করতেন না। টাকা চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যেতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।.
তিনি আরও বলেন, প্রথমে ক্যান্টিনটির বরাদ্দ আমার নামে ছিল না। আতাউর ভাইয়ের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়ে আমি এটি পরিচালনা শুরু করি। কিন্তু আরাফাত ভাই আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে টাকা না দিয়ে খাবার খেতেন। এমনকি তিনি ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।.
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে হলের ২ নম্বর ও ৪ নম্বর দোকান মালিকদের সঙ্গে কথা বললে তারাও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, আরাফাত হোসাইন ইমন তাদের কাছ থেকেও বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ও প্রসাধনী সামগ্রী ক্রয় করে অনেক সময় টাকা পরিশোধ করেননি।.
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, আমার দোকান থেকে ৬০ টাকার খাবার নিয়ে তিনি মাঝে মাঝে ২০ টাকা দিয়ে চলে যেতেন, আবার কখনো কোনো টাকা দিতেন না।.
তিনি আরও জানান, হলের ৩ নম্বর দোকান থেকে আরাফাত হোসাইন ইমনের বকেয়ার পরিমাণ তিন হাজার টাকারও বেশি। তবে এ বিষয়ে ৩ নম্বর দোকানের মালিক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।.
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল হলের ডাইনিং ক্যান্টিন সম্পাদক আরাফাত হোসাইন ইমন অস্বীকার করে বলেন, আমি খাবার খেয়ে টাকা দেয়নি বিষয়টি মিথ্যা, এবং তার সাথে এই বিষয়ে সামনাসামনি কথা বলার জন্য তাগিদ দেন।.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন,আমরা তো একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এসেছি। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হয়েছে—এটা সবার মধ্যেই আশা ও প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কেউ কেউ সেই প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে পারছেন না। তাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, সেই দায়িত্ব থেকে তারা সরে আসছেন—এমনকি এমন কিছু কাজও করছেন, যা পুরো জাকসুর ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।.
তিনি আরও বলেন, জাকসুর মূল শক্তি হওয়ার কথা ছিল এর ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও শিক্ষার্থীদের আস্থা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই ভাবমূর্তি ইতোমধ্যেই ক্ষুণ্ন হয়েছে। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বলব, আমাদের যে আশা ও প্রত্যাশার জায়গা ছিল, তা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।.
এই বিষয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) রাকিবুল ইসলাম নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না, গত দুইদিন আগে জানতে পারার পরপরই হল সংসদের পক্ষ থেকে ক্যান্টিন মালিকের সাথে আলোচনা করা হয় এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ ৯৫০০ টাকা দেওয়া হয়। তাছাড়াও ইমনকে বলা হয়েছে, হলের অন্যান্য দোকানগুলোর টাকা ক্রমান্বয়ে পরিশোধ করতে।.
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে এইরকম কাজে কেউ যুক্ত থাকলে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য সুপারিশ করা হবে।.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত ) অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নই, হলে অফিসে এসে বিস্তারিত জেনে মন্তব্য করতে পারবো।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: