• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

প্রাণকেন্দ্রেই যদি এই দশা, ভেতরের সড়কের অবস্থা কেমন?


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৫৩ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি

বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক সাতমাথা। জেলার প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, সামাজিক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু এই স্থানটি প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাটিই এখন পরিণত হয়েছে নাগরিক দুর্ভোগের প্রতীকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সাতমাথার মূল বীরশ্রেষ্ঠ চত্বর ও আশপাশের সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দিনের পর দিন সেই পানি সড়কের ওপর জমে থেকে তৈরি করছে পিচ্ছিল কাদা, দুর্গন্ধ এবং চরম ভোগান্তির পরিবেশ।প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, রিকশাচালক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের এই কাদা ও জমে থাকা নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেকেই পা পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন, আবার কারও পোশাক নষ্ট হচ্ছে কাদায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন, যার প্রভাব পড়ছে তাদের বেচাকেনায়। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন বেহাল চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরাও। তাদের প্রশ্ন—যেখানে বগুড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই অবস্থা, সেখানে অলিগলি ও ভেতরের রাস্তাগুলোর পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বর্ষা মৌসুম এলেই সাতমাথার জলাবদ্ধতা যেন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়। অথচ নগরবাসীর কাছ থেকে নিয়মিত কর আদায় করা হলেও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন মিলছে না। সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীলদের নজরদারির অভাব, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতিকেই দায়ী করছেন অনেকে। নাগরিকরা মনে করছেন, উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে সাতমাথার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যদি ন্যূনতম জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব না হয়, তবে তা নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতারই স্পষ্ট প্রমাণ।বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শুধুমাত্র সাময়িক সংস্কার নয়, বরং পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। কারণ সাতমাথা শুধু একটি মোড় নয়, এটি বগুড়ার পরিচয়ের অংশ। এই স্থানটির দুরবস্থা পুরো শহরের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।.

নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে সাতমাথার জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বগুড়ার প্রাণকেন্দ্রকে দুর্ভোগের কেন্দ্রে পরিণত হতে দেওয়া যায় না। জনগণের ভোগান্তি লাঘবে স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত মাঠে নামতে হবে। অন্যথায় এই ক্ষোভ আরও বড় জনদাবিতে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন সচেতন মহল।. .

Ajker Bogura / ডি আর/ এস এ

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ