বগুড়ায় অচেতন করে ল্যাপটপ-ফোন ও ৮০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ, মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ ভুক্তভোগীর.
বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ায় যাত্রীবেশী প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অচেতন করে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে অভিযোগ নেওয়ার পরও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি এবং দুই থানার মধ্যে অভিযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীকে ঘুরতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।.
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৩ জুন দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর থানাধীন বনানী বাসস্ট্যান্ড থেকে সিরাজগঞ্জে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। এ সময় এক অজ্ঞাত মোটরসাইকেল আরোহী গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়।.
অভিযোগে তিনি জানান, প্রায় ১০ মিনিট পর শেরপুর থানাধীন ‘নরিমিক্স ফিলিং স্টেশন’-এ তেল নেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলটি থামানো হয়। পরে পেট্রোল পাম্পের অদূরে শাজাহানপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে ‘আনাস ভ্যারাইটি স্টোর’ নামের একটি দোকানের সামনে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মোটরসাইকেল চালক ও তার সহযোগী তাকে জোরপূর্বক লিচু, খেজুর ও পানি খাওয়ায়। কিছুক্ষণ পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।.
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অচেতন অবস্থায় তার পরিবারের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে চক্রটি। বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে তার বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তিনি ধুনট মোড়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। স্বজনরা সেখানে গেলে আবার মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ডের কথা বলা হয়।.
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর রাত প্রায় ১১টার দিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর একটি কক্ষ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন তার বন্ধু মেহেদী মারুফ। পরে তাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন চিকিৎসার পর জ্ঞান ফিরলে চিকিৎসকরা জানান, তাকে উচ্চমাত্রার চেতনানাশক খাওয়ানো হয়েছিল।.
ভুক্তভোগীর দাবি, জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান তার সঙ্গে থাকা লেনোভো ল্যাপটপ, ভিভো এক্স-২০০ মডেলের স্মার্টফোন এবং ব্যাগে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা নেই।.
এ বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গত ৬ জুন শেরপুর থানায় অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে অগ্রগতির বিষয়ে যোগাযোগ করলে পুলিশ বিষয়টি চলমান আছে বলে জানায়। ১৭ জুন আবার যোগাযোগ করলে এক এসআই তাকে শাজাহানপুর থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।.
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, শাজাহানপুর থানায় গেলে সেখান থেকে শেরপুর থানায় মামলা করার কথা বলা হয় এবং অভিযোগ নিতে গড়িমসি করা হয়। পরে অনেক অনুরোধের পর অভিযোগপত্র রেখে দেওয়া হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।.
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: