• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ০৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বগুড়ার সাবেক পৌর প্রশাসক রাজিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে মন্ত্রণালয়


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত ( এডিটেড)
ছবি : সংগৃহীত (এডিটেড)

বগুড়া পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বর্তমান স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।.

গত ৩ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন শাখা-১ থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপসচিব রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে একজন ঊর্ধ্বতন আইন কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।.

সূত্র জানায়, সম্প্রতি বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলিম উদ্দিন হারুন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজিয়া সুলতানা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।.

অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে হাটবাজার ইজারা প্রদান করে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ভবনের নকশা অনুমোদনে বিধি লঙ্ঘন, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন খাত থেকে উৎকোচ গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।.

জানা গেছে, অভিযোগের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।.

তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন উপপরিচালক রাজিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, “আমি সবসময় সরকারি নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালনের সময় যাদের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে, তারাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। আমি চাই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হোক। তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।”.

এ বিষয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক বলেন, অভিযোগটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে এবং বিষয়টি মন্ত্রণালয়ই প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখভাল করছে। ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।.

অন্যদিকে নবগঠিত -এর প্রশাসক বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। ব্যক্তি নয়, আইনের শাসন ও স্বচ্ছতাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটিই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।”.

প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফলে অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।.

 .

সূত্র : যুগান্তর. .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ