হেডলাই.
পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কোনো একক সরকারের হঠাৎ নেওয়া প্রকল্প নয়, বরং এটি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বহু রাজনৈতিক পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, আর্থিক সংকট ও দীর্ঘ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে বাস্তবে রূপ নেওয়া একটি জাতীয় স্বপ্নের নাম। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান আমলে দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং ১৯৬২ সালে রূপপুরকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হলেও নানা বাস্তবতায় সেই উদ্যোগ থেমে যায়। স্বাধীনতার পরও প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণসহ কিছু প্রাথমিক কাজ এগোলেও দীর্ঘ সময় এটি স্থবির ছিল। পরে ২০০৯ সালে নতুন করে উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা Rosatom-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয় এবং ২০১১ সালে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর ২০১৭ সালে প্রথম ইউনিট এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ শুরু হয়। ২ দশমিক ৪ গিগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই কেন্দ্রটিতে আধুনিক রুশ VVER-১২০০ প্রযুক্তির দুটি রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অনুসরণ করে নির্মিত। ২০২৩ সালে প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছানোর মাধ্যমে প্রকল্পটি চালুকরণের পথে প্রবেশ করে এবং বর্তমানে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের ধাপে রয়েছে। ফলে রূপপুরকে শুধু কোনো একটি রাজনৈতিক দলের কৃতিত্ব হিসেবে দেখার চেয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার প্রতীক হিসেবে দেখা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত, কারণ এই প্রকল্পের শুরু এক সরকারের আমলে হলেও এর বাস্তবায়ন হয়েছে বহু সময়, বহু নেতৃত্ব ও বহু প্রজন্মের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায়।.
.
. .
Ajker Bogura / TMN
আপনার মতামত লিখুন: