বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়ামে নতুন এলইডি ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম এবং রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা, যেখানে প্রতিটি স্টেডিয়ামের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা।.
একসময় দেশের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক ভেন্যু ছিল বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। ২০০৬ সালে এখানে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যায় ভেন্যুটি। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং আধুনিকায়নের ঘাটতির কারণে স্টেডিয়ামটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় আয়োজন থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।.
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি স্টেডিয়ামটিকে নতুনভাবে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। শুধু ফ্লাডলাইট স্থাপনই নয়, গ্যালারি সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম আধুনিকীকরণ, মিডিয়া সুবিধা বৃদ্ধি, সম্প্রচার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দর্শকদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম আবারও আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।.
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের ক্রিকেট উন্নয়নে বগুড়ার এই স্টেডিয়ামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক ফ্লাডলাইট স্থাপন হলে শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়, বিপিএল, জাতীয় লিগ, যুব টুর্নামেন্ট এবং বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ম্যাচও রাতের বেলায় আয়োজন করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।.
বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে আধুনিকায়ন করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনা। বিসিবির নতুন এই উদ্যোগ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বগুড়ার ক্রিকেটপ্রেমীরা আবারও নিজেদের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উত্তেজনা উপভোগ করার সুযোগ পেতে পারেন।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: