বগুড়া শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ফতেহ আলী সেতু দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অদক্ষ বাস্তবায়নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিন দফা সরকার পরিবর্তন হলেও এই সেতু দিয়ে চলাচলকারী মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্মাণ ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন লাখো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।.
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ রেলিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়নি। ফলে পথচারী, যানবাহন চালক এবং সাধারণ মানুষের জন্য সেতুটি এক ধরনের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সেতু থেকে পড়ে এক অন্ধ পথচারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা এই অব্যবস্থাপনার ভয়াবহতা স্পষ্ট করে তুলেছে।.
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অবকাঠামো প্রকল্প অসম্পূর্ণ রেখে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া চরম দায়িত্বহীনতা এবং আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। প্রকল্পের ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা, তদারকির ঘাটতি এবং সম্ভাব্য অনিয়মের কারণে সেতুটি আজও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।.
বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে—.
প্রথমত, ফতেহ আলী সেতুর অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও নিরাপত্তা রেলিং স্থাপন করতে হবে।.
দ্বিতীয়ত, নির্মাণকাজে বিলম্বের জন্য দায়ী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।.
তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।.
বগুড়া শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত এই সেতু কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কোনো নাগরিকের জীবন ঝুঁকিতে রেখে উন্নয়নের নামে অবহেলা চলতে পারে না। সময় এসেছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার এবং মানুষের জীবনের মূল্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার।. .
Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন
আপনার মতামত লিখুন: