বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো রাজনৈতিক দলকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। তিনি বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে রাজনৈতিক শক্তিকে প্রশাসনিকভাবে দমন করা গেলেও স্থায়ীভাবে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় না।.
সোমবার (২৭ এপ্রিল) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। আলোচনায় তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে পারেনি, একইভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হবে না।.
পাপিয়া বলেন, “নির্মূল, নিঃশেষ—এসব শব্দ রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্যবহৃত হলেও বাস্তবে একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া সম্ভব নয়। অপরাধের বিচার এক বিষয়, আর একটি রাজনৈতিক দলকে চিরতরে মুছে ফেলা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।”.
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অপরাধের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত, তবে সেটিকে একটি পুরো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। পৃথিবীর ইতিহাসেও কোনো দেশে এভাবে একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে স্থায়ীভাবে বিলীন করা যায়নি।.
টকশোতে তিনি জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তার ভাষায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জামায়াত বিরোধী দলের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে।.
তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তবভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি না থাকলেও জামায়াতকে এগিয়ে নিতে বিশেষ কৌশল নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে কিছু পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।.
পাপিয়ার এ বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তার মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।. .
Ajker Bogura / তারিন মোস্তারি
আপনার মতামত লিখুন: