বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে ফাঁকা বাড়িতে পরিকল্পিত চুরির ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির মালিক পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারিদের যাতায়াতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।.
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল রানা একটি বিদেশি (চায়না) প্রকল্পে কর্মরত। কয়েকদিন আগে তার স্ত্রী আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় বসতবাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে ছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ একটি চক্র বাড়ির মূল ফটকের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।.
চোরেরা ঘরের ভেতরে ঢুকে আলমারি ও ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে আনুমানিক এক ভরি স্বর্ণালংকার, রুপার গহনা, নগদ অর্থ, বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের তার এবং বেশ কিছু নতুন কাপড়চোপড় নিয়ে যায়। ঘটনাটি এতটাই পরিকল্পিত ছিল যে, আশপাশের কেউ টের পাওয়ার আগেই তারা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।.
পরদিন ভোরে প্রতিবেশী সোহাগ হোসেন বাড়ির দরজা খোলা দেখতে পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে ভেতরে ঢুকে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সোহেল রানাকে ফোনে অবহিত করেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাড়িতে এসে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে হতবাক হয়ে পড়েন।.
এ ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ। সোহেল রানার স্ত্রীর দাবি, সম্প্রতি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও বখাটেদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। ঘটনার আগের দিন কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে বারবার যাতায়াত করছিল। বাড়ির সীমানা ব্যবহার না করতে বললে তারা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। পরিবারের ধারণা, ওই ঘটনার জের ধরেই ফাঁকা বাড়ি পেয়ে প্রতিশোধমূলকভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।.
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনাটি পুলিশের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।.
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।. .
Ajker Bogura / টি এম
আপনার মতামত লিখুন: