আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, এবারের ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য গত দুই দশকের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।.
সংগঠনটির তথ্যমতে, দেশের প্রায় ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। শুধু বাস খাতেই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা আদায় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।.
সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি বেড়েছে। যেখানে পাবনা বা নাটোর রুটে স্বাভাবিক ভাড়া ছিল ৫৫০ টাকা, সেখানে এখন তা ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে রংপুর রুটে ৫০০ টাকার ভাড়া বেড়ে হয়েছে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। চট্টগ্রাম থেকে ভোলা বা লক্ষ্মীপুর রুটেও ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় উঠেছে।.
শুধু বাড়তি ভাড়া নয়, বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানি কৌশলগতভাবে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গন্তব্যে টিকিট না দিয়ে দূরের গন্তব্যের টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে যাত্রীদের। এছাড়া ৫২ আসনের বাসে কম আসনের ভাড়া আদায়ের মতো অনিয়মও চলছে।.
সংগঠনটির দাবি, পরিবহন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাসের অজুহাত দেখানো হলেও বাস্তবে মালিকপক্ষ তা পরিশোধ করে না। বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সড়কে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত মুনাফার লোভের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীদের ওপরই পড়ে।.
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঈদে প্রায় ৪০ লাখ দূরপাল্লার যাত্রী যাতায়াত করবেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশকেই গড়ে ৩৫০ টাকা করে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে সিটি সার্ভিসে ৬০ লাখ যাত্রীর মধ্যে বেশিরভাগকে গড়ে ৫০ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে।.
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গণপরিবহনে ডিজিটাল পেমেন্ট চালু করা, মহাসড়কে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো এবং দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা।.
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ঈদ আনন্দ এই ভাড়া নৈরাজ্যের কারণে ম্লান হয়ে যেতে পারে।. .
Ajker Bogura / ডি আর/ এস এ
আপনার মতামত লিখুন: