স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মির শাহ আলম উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন।.
এ বিষয়ে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-এর কাছে একটি জরুরি ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি দ্রুত বিবেচনার অনুরোধ জানান।.
এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় একটি সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠন করেছে, যা এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেবে। এদিকে, নেসকোর বর্তমান প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে থাকায় এই প্রস্তাবকে ঘিরে সেখানে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।.
২৫ ফেব্রুয়ারির ওই চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নেসকোর কার্যক্রম পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং দক্ষিণ-পূর্বে পাবনা পর্যন্ত বিস্তৃত।.
রাজশাহীতে প্রধান কার্যালয় থাকায় উত্তরাঞ্চলের কার্যক্রম পরিচালনায় নানা দেরি হয়, যা সামগ্রিক দক্ষতার ওপর প্রভাব ফেলে বলে তিনি উল্লেখ করেন।.
তিনি যুক্তি দেন, বগুড়া রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মাঝামাঝি অবস্থানে হওয়ায় সেখানে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করলে কার্যক্রম আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।.
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তর করা হলে রাষ্ট্রের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, ব্যয় সাশ্রয়, প্রশাসনিক গতিশীলতা এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নত হবে। এ বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।”.
এই চিঠির প্রেক্ষিতে ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম একটি সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠন করেন।.
কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয় শাখা) মোহাম্মদ সানাউল হক-কে। এছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর একজন প্রতিনিধি কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।.
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে প্রতিমন্ত্রী মির শাহ আলম ও কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সানাউল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।.
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান। তিনি বলেন, “বিএনপির শাসনামলে অনেক দপ্তর বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে বগুড়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার যদি এমন হয়, তবে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক হবে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।”.
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যুৎ বিভাগে ব্যাপক দুর্নীতি রয়েছে। নেসকো যদি বগুড়ায় নেওয়া হয়, তাহলে তাদের জবাবদিহিতা থাকবে না। আমরা চাই প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকুক—এই শিক্ষা নগরীতে। না হলে রাজশাহীর মানুষ রাজপথে নামতে পারে।”.
নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশিউর রহমান বলেন, “আমরা এ ধরনের গুঞ্জন শুনেছি, কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। আমার কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে কিছু জানেন না। সরকারই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”.
উপসচিব ফারজানা খানম বলেন, “ডিও চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এক মাস কাজ করে সুপারিশ জমা দেবে, এরপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”. .
Ajker Bogura / তাহমিদ জাওয়াদ
আপনার মতামত লিখুন: