১৭ বছরেও জোটেনি সংস্কার.
শেরপুরের খন্দকার টোলা-ফুলতলা সড়কে লাখো মানুষের চরম দুর্ভোগ.
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:.
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ খন্দকার টোলা সড়কটি এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে কোনো প্রকার সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে থাকায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চারটি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষকে।.
সরেজমিনে দেখা যায়, খন্দকার টোলা, সাধুবাড়ী, মামুরশাহী, আয়রা, ভায়রা, উচড়ংসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের শহরের প্রধান স্থান খন্দকারটোলা। এই সড়কের পাশে কোনো ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি নামতে পারে না। ফলে রাস্তার ওপর নোংরা পানি জমে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে ধুলো আর বর্ষায় কাদার সঙ্গে নর্দমার পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয় তাদের।.
খন্দকারটোলা এই সড়কের সঙ্গেই সংযুক্ত রয়েছে ৫শ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেরুয়া মসজিদ। দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অন্যতম এই স্থাপনাটি দেখতে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসেন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা দেখে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা দেশের পর্যটন খাতের সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যটকদের অনেক সময় নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়।.
এছাড়াও সেরুয়া বটতলা টু ফুলতলা রাস্তাটি প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত। এই রাস্তারও একই এই সড়কের পাশে কোনো ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি নামতে পারে না। ফলে রাস্তার ওপর নোংরা পানি জমে রাস্তার পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।.
অটোরিকশা চালক মহিউদ্দিন ও রমজান আলী আক্ষেপ করে বলেন, সারাদিন যা আয় করি, তার সিংহভাগ চলে যায় গাড়ির মেকানিকের পেছনে। ভাঙা রাস্তার কারণে অটোর পার্টস ঘনঘন নষ্ট হয়। ৬ জনের জায়গায় ৪ জন যাত্রী নিয়েও গাড়ি চালানো দায় হয়ে পড়েছে।.
যাত্রী ইয়াসিন, আরাফাত ও শামীম বলেন, ভাঙা রাস্তায় অটোরিকশা চললে ঝাকুনিতে অনেকের মাথা গাড়ির ছাদে লেগে আহত হওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের। গত বছর এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে ইট বিছিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করলেও বর্তমানে সেটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।.
এ বিষয়ে শাহবন্দেগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমি বারবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। কিন্তুবরাদ্দ না থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।.
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছিলাম বরাদ্ধ না থাকায় কাজ হয়নি। আবার প্রস্তুতি করেছি চিঠি অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হবে। দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী. .
Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন
আপনার মতামত লিখুন: