বগুড়া শহরের কালিতলায় জন্ম নেওয়া ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী একজন পরিচিত বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও মডেল। টেলিভিশন নাটক ও বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকমহলে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশেষ করে জোছনার ফুল ধারাবাহিকে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা টিভি অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ২০০৪ সালের চলচ্চিত্র রং নাম্বার-এ অভিনয়ের জন্য সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পান।.
প্রারম্ভিক জীবন:
শ্রাবন্তীর শৈশব কেটেছে বগুড়ায়। তার পৈত্রিক বাড়ি আদমদীঘির ছাতিয়ান গ্রামে। বাবা ইসাহাক আলী মাস্টার এবং মা মাহমুদা সুলতান। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার আগ্রহ ছিল। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে জাপানে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে নৃত্য পরিবেশন করেন। পরে বিটিভির নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানে নৃত্যে বিজয়ী হন এবং ভরতনাট্যমে প্রশিক্ষণ নেন।.
কর্মজীবন:
মডেলিংয়ের মাধ্যমে তার মিডিয়া যাত্রা শুরু। মেরিল শ্যাম্পু ও ইউরো কোলার বিজ্ঞাপনে কাজ করে তিনি সেরা নারী মডেল বিভাগে মনোনয়ন পান। পরবর্তীতে টিভি নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।.
হুমায়ূন আহমেদের রচনায় জোছনার ফুল নাটকে অভিনয় তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এছাড়া একান্নবর্তী, সিক্সটি নাইন, নুরুল হুদা একদা ভালোবেসেছিল, অপু দ্য গ্রেট, ভাত ঘুমসহ বেশ কিছু নাটকে কাজ করেছেন।.
২০০৪ সালে রং নাম্বার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।.
ব্যক্তিগত জীবন:
২০০৭ সালে সংগীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়, যা ২০১০ সালে বিচ্ছেদে শেষ হয়। একই বছর তিনি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমকে বিয়ে করেন। তাদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।.
পরবর্তীতে পারিবারিক জটিলতার মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং সেখানে কিছুদিন কাজ করার পাশাপাশি মেডিকেল সহকারী হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৮ সালে দাম্পত্য বিরোধ নিয়ে আইনি লড়াইও করেন।.
পুরস্কার ও স্বীকৃতি:.
ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী বাংলাদেশের টেলিভিশন অঙ্গনে একসময় উজ্জ্বল নাম ছিলেন। অল্প সময়ের ক্যারিয়ার হলেও অভিনয় ও মডেলিংয়ে তার অবদান দর্শকদের মনে এখনও স্মরণীয় হয়ে আছে।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: