কাজ দেয়া হয়েছে বালিশকান্ডের সাথে জড়িত আলোচিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। গুদাম নির্মানের জেলাগুলো হলো-লালমনিরহাট,সিরাজগঞ্জ,জয়পুরহাট ও দিনাজপুর।.
.
প্রতিটি গুদাম নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ৩৪ টি গুদাম নির্মান করতে ৩ শত কোটি টাকা ব্যয় হবে। আর অনিয়মের মাধ্যমে কাজ পাওয়া মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডই করবে পুরো প্রকল্পের কাজ।.
.
সুত্রমতে, বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ও প্রকল্পের পরিচালক মন্জুরুল হকের সাথে গোপন চুক্তিতে মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনকে আগেই ‘রেটকোট’ দেয়া হয়েছে। কাজটি সমন্বয় করেছেন পিডি মো: মঞ্জুরুল হক।.
.
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ভাঙ্গার কাজ করে বিগত সরকারের সুদৃষ্টি পাওয়া মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বালিশকান্ডে বেশ আলোচিত ছিল তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদেরই একটি ‘মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। বালিশকান্ডের পর ২০২৪ সালের শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে পড়া ঘটনায় আবারও আলোচনায় আসে প্রতিষ্ঠানটি। বিগত সরকারের দুর্নীতির মহারথী প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), সিটি করপোরেশনসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রকল্পের নির্মাণ কাজ পেয়েছিলো ।.
.
সুত্রমতে, আওয়ামী লীগের পুরো মেয়াদে সুবিধাভোগী মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনের মালিক ৫ আগস্টের পর জামাতের ঘাড়ে সওয়ার হন । সেই ধারাবাহিকতায় বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের সুদৃষ্টি লাভ করেন মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের কর্ণধার আসিফ। .
.
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের শেষ দিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের একাংশের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনার নেপথ্যেও ছিলো মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন । ২০২৪ সালের ২৯ শে জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণাধীন অডিটোরিয়ামের ছাদের ঢালায় সম্পন্ন হবার পরদিন দুপুরেই সাটারিং ধসে পড়েছিলো। .
.
অনুসন্ধানের তথ্য মতে, রাবির ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১০ তলাবিশিষ্ট শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান আবাসিক হল এবং ২০তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ পায় রূপপুরের বালিশকান্ডে আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। হল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে ১০ তলা এ ভবণের নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। পরে প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়েছিলো। এই হলে ৩০ ফিট উচ্চতার একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণের কাজ চলছিলো। সেখানেই দূর্ঘটনা ( সাটার ধ্বস) ঘটে।.
.
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক মন্জুরুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ‘ নিয়ম মেনেই মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশনকে কাজ দেয়া হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের সাথে প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে জড়িত সেটি তার জানা নেই। ‘.
.
তবে মঞ্জুরুল হকের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে একাধিক জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে শিল্প মন্ত্রণালয় একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলো। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অপূর্ব কুমার মন্ডল। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, প্রায় ৩/৪ মাস আগেই তদন্ত রিপোর্ট সচিবের দপ্তরে জমা দিয়েছি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করা হয়নি। ‘.
.
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন ঠিকাদার আক্ষেপ করে বলেন, মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ভাঙ্গার মত অমানবিক কাজটি হাসিমুখে করেছিলো। দেশের ইতিহাসে আলোচিত অমানবিক ঘটনা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের শেকড় উপড়ে ফেলার মত জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার দু:সাহস দেখানো প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন করে সরকারি কাজ পাইয়ে দেয়ার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।. .
Ajker Bogura / তাহমিদ জাওয়াদ
আপনার মতামত লিখুন: