বাজারে বহুল জনপ্রিয় কিছু প্যাকেটজাত ব্রেড ও বেকারি পণ্যের দীর্ঘ মেয়াদ নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের পছন্দের এই খাবারটি বাজারে আসার পর থেকেই সচেতন ক্রেতাদের একাংশ ভাবছিলেন, যেখানে সাধারণ ব্রেডের মেয়াদ থাকে চার থেকে পাঁচ দিন, সেখানে একটি প্যাকেটজাত ব্রেড কীভাবে এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণযোগ্য থাকে। সম্প্রতি এক ক্রেতা স্থানীয় একটি দোকান থেকে এমন একটি ব্রেড কেনার সময় দোকানদারের কাছে এর দীর্ঘ সংরক্ষণ ক্ষমতার কারণ জানতে চান। জবাবে দোকানদার হাসতে হাসতে জানান, পণ্যটির বিক্রি ভালো হওয়ায় তিনি শুধু বিক্রিই করেন, এর উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত তার জানা নেই। পরে বাসায় গিয়ে পণ্যের গায়ে থাকা উপাদান তালিকা পরীক্ষা করে ওই ক্রেতার মধ্যে আরও কৌতূহল তৈরি হয়। তার দাবি, পণ্যের মোড়কে উপাদানগুলোর নাম অত্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে লেখা হয়েছে। ইংরেজি “Glycerin” শব্দটি বাংলায় “গিসেরিন” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে “Compound” শব্দটি ব্যবহার করা হলেও কোন ধরনের কম্পাউন্ড ব্যবহৃত হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। এছাড়া “Enzyme Powder” লেখা থাকলেও সেটি কোন ধরনের খাদ্যমানের এনজাইম, সে সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে “Calcium Propionate” নামের সংরক্ষণ উপাদানটি। অভিযোগ অনুযায়ী, মোড়কে এটি ভুল বানানে “Calcium Proionate” লেখা হয়েছে এবং বাংলাতেও এর অনুবাদ নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। এছাড়া “Sodium Dehydroacetate” নামের আরেকটি সংরক্ষণ উপাদান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে এই উপাদান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন মহলের মতে, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের মোড়কে ব্যবহৃত উপাদানের নাম স্পষ্ট ও নির্ভুলভাবে উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল বা অস্পষ্ট তথ্য ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো পণ্য মাঝে মধ্যে খাওয়া আর প্রতিদিন নিয়মিত খাওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই প্যাকেটজাত খাদ্য কেনার আগে উপাদান তালিকা যাচাই করে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।.
Ajker Bogura / তারিন মোস্তারি
আপনার মতামত লিখুন: