সংবাদ সম্মেলনে তিনি ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নিহত সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একইসাথে দেশ গঠনে সারাদেশের প্রতিটি নেতাকর্মীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।.
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, 'যেকোনো মূল্যে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা আমরা মেনে নেবো না। দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ আবারো বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। এ বিজয় বাংলাদেশের। এ বিজয় গণতন্ত্রের। এই বিজয় গণতন্ত্রকামী জনগণের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন।'.
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি আগামী দিনের রাষ্ট্র গঠন, জাতীয় ঐক্য এবং শান্তি-শৃঙ্খলার বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন।.
দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, 'আমি দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানাই। সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আপনারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছেন। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেয়া সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে—এ জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।'.
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও গণ অধিকার পরিষদসহ সকল দলই গণতন্ত্রের বাতিঘর। তিনি আরও বলেন, 'নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তাভাবনাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।'.
একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের প্রতি অকৃত্রিম শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।.
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, 'যাদের রক্ত মাড়িয়ে, কষ্টের সিঁড়ি বেয়ে আজকের এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সেই সকল বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। যারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আপনাদের ভূমিকাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ রাখবে।'.
এই আনন্দঘন পরিবেশে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার অটল লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি মরহুমার মাগফিরাত কামনা করেন।.
বিজয় পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, 'আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যে কোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। দলমত ধর্ম বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ মেনে নেয়া হবে না। 'ন্যায়পরায়ণতাই' হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সকল প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্নমত—প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান।'.
নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কোনো ভুল বোঝাবুঝি যেন প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর আমি সারাদেশে বিএনপি এবং জোটভুক্ত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে বিজয় উৎসব পালন করেছি। উস্কানির মুখেও আপনারা শান্ত এবং সতর্ক থাকবেন।' .
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। ৩১ দফার আলোকে ঘোষিত দলীয় ইশতেহার এবং জুলাই সনদের প্রতি তার দলের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে বলে তিনি জানান। সবশেষে তিনি একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে দেশবাসী এবং সকল গণতান্ত্রিক শক্তির সহযোগিতা কামনা করেন।.
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।.
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আহমেদ পাভেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নুল আবেদিন, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ইসমাইল জবিউল্লাহ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন আহমেদ অসীম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।.
Ajker Bogura / Md.Showrov Hossain
আপনার মতামত লিখুন: