• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৩১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব: ৩৮ শিশুর মৃত্যু, টিকা না নেওয়াই মূল কারণ


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৩৬ পিএম
ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

চলতি বছর দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র মার্চ মাসেই মারা গেছে ৩২ জন। এই রোগ ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও অন্যান্য জেলায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে, সেখানে ২১ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ এবং রাজশাহী ও পাবনায় ১ জন করে শিশু মারা গেছে। সব তথ্য মিলিয়ে চলতি বছরে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৬ ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।.

মহাখালী ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এ বছর এখন পর্যন্ত ৫৬০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, যেখানে গত বছর পুরো বছরই ভর্তি ছিল মাত্র ৬৯ জন। শুধু মার্চ মাসের ২৯ দিনে সেখানে ৪৪৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ এবং নোয়াখালীতে ১৫ দিনে ৩০০-এর বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজেও পরিস্থিতি গুরুতর, যেখানে আলাদা আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে।.

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা গ্রহণ না করাটাই প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ। প্রথম ডোজ টিকা নেওয়া হলেও অনেক শিশু দ্বিতীয় ডোজ নেয় না। কিছু ছোট কমিউনিটি বা পরিবার যেখানে টিকা হয়নি, তারা রোগের উৎস হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া ২০২৪ সালে দেশের পরিস্থিতির কারণে বিশেষ হাম টিকা ক্যাম্পেইন সম্ভব হয়নি, এবং গত বছর স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম তিনবার ব্যাহত হয়েছে। ভিটামিন-এ ও কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানোও বন্ধ থাকায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।.

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় মজুদ প্রায় শেষ, মাঠ পর্যায়ে মাত্র এক মাসের টিকা আছে। তবে বিশেষ ক্যাম্পেইনের জন্য নতুন টিকা ইতোমধ্যেই দেশে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে এবং ঈদুল আজহার আগে বা পরে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে পারে।.

হাম রোগ দ্রুত ছড়ায় এবং শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে। হামের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই, তাই মূলত জটিলতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসাই মূল কৌশল। শিশুর চোখের ক্ষতি রোধে ভিটামিন-এ দেওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।.

 . .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

স্বাস্থ্য বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ