বগুড়ার সদর উপজেলার পল্লীমঙ্গল এলাকায় ফোকাস সোসাইটি এনজিওর ফিল্ড অফিসার মোখলেছার রহমান (৩৭) নিখোঁজের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ফয়সাল আহমেদ (৩১) ও আলামিন (৩৩) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে বগুড়া সদর থানা পুলিশ। আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল সকালে ঋণের টাকা আদায়ের কাজে বের হন মোখলেছার রহমান। দুপুরের পর থেকে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একইদিন রাতে পল্লীমঙ্গল বাজার মসজিদের সামনে রাস্তার পাশে তার ব্যবহৃত বাজাজ সিটি-১০০ মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। পরদিন রাত আড়াইটার দিকে মোখলেছারের বড় ভাই আতাউর রহমানের মোবাইলে ফোন করে অপহরণকারীরা দাবি করে, মোখলেছার তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে জীবিত ফেরত পেতে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনে মোখলেছারের সঙ্গেও কথা বলানো হয়। পরে ভয়ভীতির মুখে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন নম্বর থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৮৭ হাজার ৯৯০ টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরও মোখলেছারকে ছাড়া হয়নি, বরং আরও টাকা দাবি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেন এসআই আব্দুল খালেক। তবে এখনো নিখোঁজ মোখলেছারের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে ঘটনাকে ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে অপহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সন্দেহ করছেন মোখলেছার রহমান আত্মগোপনে থেকেও পুরো ঘটনাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে পারেন। পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকা দুই আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মোখলেছার রহমানকে জীবিত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। রহস্যময় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো বগুড়াজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।.
Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ
আপনার মতামত লিখুন: