পবিত্র রমজান মাস এলেই বগুড়া শহরের স্টেশন সড়ক এলাকায় এক ভিন্নমাত্রার ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন চোখে পড়ে। প্রতিদিন দুপুর গড়াতেই শুরু হয় ইফতার প্রস্তুতি। বিকেলে আসরের নামাজের পর রান্না করা খাবার নির্ধারিত স্থানে এনে খাদেম ও স্বেচ্ছাসেবকেরা তা প্লেটে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে মসজিদ প্রাঙ্গণে ভিড় বাড়তে থাকে, আর নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষায় থাকেন রোজাদার মুসল্লিরা।.
ইফতারের সময় হলে একেকটি প্লেটে চারজন করে বসে একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। পুরো আয়োজনটি পরিচালিত হয় সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায়। মুসল্লিরা নির্দিষ্ট সারিতে বসেন এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা খাবার বিতরণে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের কাছে এ আয়োজন ‘সম্প্রীতির ইফতার’ নামে পরিচিত।.
জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগ ধরে ধারাবাহিকভাবে এ ইফতার কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছে। স্থানীয় মুসল্লি, ব্যবসায়ী ও দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রতিদিনের আয়োজন বাস্তবায়ন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে একই সারিতে বসে ইফতার করেন, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে জোরদার করে।.
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, পুরো কার্যক্রম স্বেচ্ছাশ্রম ও অনুদানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। খাদ্য প্রস্তুত, পরিবেশন ও পরিচ্ছন্নতা—সবকিছুতেই স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে এ আয়োজন। রমজানজুড়ে প্রতিদিনের এই সম্মিলিত ইফতার কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা জোরদারে ভূমিকা রাখছে।.
.
Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন
আপনার মতামত লিখুন: