.
বগুড়ার শেরপুরে অবস্থিত এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তাদের বিরুদ্ধে ওঠা নদী দূষণের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, করতোয়া, বাঙালী বা ফুলজোড় নদীর পানি তাদের কারখানার বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে না; বরং একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।.
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক এ. কে. এম. মাসুদুর রহমান।.
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, এসআর কেমিক্যাল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক রাসায়নিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে কস্টিক সোডা, ব্লিচিং পাউডার ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল উৎপাদন করা হয়, যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যাদের অধিকাংশই স্থানীয় বাসিন্দা।.
নদী দূষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারখানায় উৎপাদিত বর্জ্যের বড় অংশ স্থানীয় পেপার মিল ও ডাইং কারখানায় সরবরাহ করা হয়। অবশিষ্ট অংশ অত্যাধুনিক ইফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পরিশোধন করে পুনঃব্যবহারযোগ্য করা হয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের শর্ত মেনে নির্দিষ্ট আউটলেট দিয়ে তা নিষ্কাশন করা হয়।.
সম্প্রতি শেরপুর শহরের বারুনীর ঘাট এলাকায় মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ওই স্থানটি তাদের কারখানার আউটলেট থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত। ভৌগোলিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে কারখানার বর্জ্য উজানে গিয়ে পানি দূষিত করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।.
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৩ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কারখানা পরিদর্শন করে নদী দূষণের কোনো প্রমাণ পায়নি। এছাড়া গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখেও নদীর ছয়টি ভিন্ন পয়েন্ট থেকে সংগৃহীত পানির নমুনা পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যেই ফল পাওয়া গেছে।.
এসআর কেমিক্যাল কর্তৃপক্ষ নদী দূষণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে এবং যেকোনো তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।. .
Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন
আপনার মতামত লিখুন: