উত্তরবঙ্গের অন্যতম আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ মধুবন সিনেপ্লেক্স দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আবারও রুপালি জগতের আলোয় ফিরছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরে শাকিব খান অভিনীত প্রিন্স চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।.
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সিনেপ্লেক্সের কর্মকর্তারা জানান, লোকসানের বোঝা কাঁধে নিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই প্রেক্ষাগৃহটি ঘিরে তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। তবে বর্তমান চলচ্চিত্র বাজারে শুধু দেশি সিনেমা দিয়ে টিকে থাকা কঠিন বলেও মনে করছেন তারা।.
১৯৭৪ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট এ এম ইউনুসের হাত ধরে ডাকু মনসুর চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে মধুবন সিনেমা হলের যাত্রা শুরু হয়। বাংলা সিনেমার সোনালি সময়ে এটি ছিল বগুড়াবাসীর বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র। ব্যবসায়িক মন্দায় মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেলেও ২০১৭ সালে ঢাকা অ্যাটাক প্রদর্শনের পর বড় ধরনের সংস্কারকাজ শুরু হয়। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালে এটি আধুনিক সিনেপ্লেক্সে রূপ নেয়।.
সংস্কারের পর প্রিয়তমা, তুফান, বরবাদ, তাণ্ডব এবং বলিউডের জওয়ান প্রদর্শনের সময় টানা হাউসফুল থাকলেও পরবর্তীতে মানসম্মত চলচ্চিত্রের অভাবে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর পাঁচ মাস এটি কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।.
সিনেপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারী আর এম ইউনুস রুবেল বলেন, সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা রয়েছে। দেশীয় মানসম্মত চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নিয়মিত বিদেশি ছবি আমদানির সুযোগ না পেলে আবারও সংকটে পড়তে হতে পারে।.
পরিচালক এস এম ইউনুস রোহান জানান, কর্মীদের কর্মসংস্থান ও দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই নতুন করে পথচলা শুরু হচ্ছে। ঈদুল ফিতরে সিনেমাপ্রেমীদের বরণ করে নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।.
এদিকে, বগুড়া পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, প্রতিষ্ঠাতা এ এম ইউনুস রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত থাকায় বিগত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। সাধারণ মানুষের বিনোদনের স্বার্থে সিনেপ্লেক্সটি টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা প্রয়োজন।.
প্রেক্ষাগৃহটি পুনরায় চালুর ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত শ্রমিক-কর্মচারীরাও। প্রায় ৫০ বছর ধরে এখানে কর্মরত শাজাহান জানান, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আবার কাজ ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন তারা।.
লোকসানের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে ঈদকে সামনে রেখে আবারও উৎসবের আমেজ ফিরবে মধুবন প্রাঙ্গণে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।.
Ajker Bogura / ডেস্ক রিপোর্ট
আপনার মতামত লিখুন: