• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

সারাদেশে গত ১ বছরে আত্মহত্যা করেছে ৪০৩ শিক্ষার্থী


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৪৬ এএম
ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

দেশে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার। গত এক বছরে সারা দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে স্কুল পর্যায়ে। স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জন শিক্ষার্থী আত্মহনন করেছে, যা মোট ঘটনার ৪৭.৪০ শতাংশ। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।.

 .

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা মূলত কৈশোরের সংবেদনশীল সময়ে থাকে। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি। স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জনের মধ্যে ১৩৯ জনই মেয়ে এবং ৫১ জন ছেলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৈশোরে মেয়েরা সামাজিক ও পারিবারিক চাপ এবং আবেগীয় সংকটে বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে।.

 .

স্কুল শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে পরিবারের প্রতি অভিমান সর্বোচ্চ (৩২.৬১ শতাংশ)। পড়াশোনার চাপের প্রভাবে ২৩.৬৯ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহনন করেছে। বিষণ্ণতা বা হতাশার কারণে ১৯.৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এছাড়াও প্রেমঘটিত বিষয়, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং যৌন নির্যাতন শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।.

 .

বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি, যা মোট ঘটনার ৬৬.৫০ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর পেছনে নগরায়ণ এবং প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রভাব থাকতে পারে।.

 .

আঁচল ফাউন্ডেশন ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার শূন্যে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগের অভাব এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিং ব্যবস্থার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তাই কেবল সচেতনতা নয়, শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় দ্রুত কাঠামোগত পরিবর্তন ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যাবশ্যক।.

 .

আঁচল ফাউন্ডেশনের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডা. আনিস আহমেদ, কনসালট্যান্ট ফরেন্সিক সাইকিয়াট্রিস্ট, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, যুক্তরাজ্য, ডা. সৈয়দ মাহফুজুল আলম, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, অ্যাপলঊড সেন্টারস, শিশু ও কিশোর মনোরোগ হাসপাতাল, যুক্তরাষ্ট্র, ডাঃ মারুফ আহমেদ খান, সহকারী পরিচালক, টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ, জনাব সোহেল মামুন, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, আঁচল ফাউন্ডেশন এবং আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ।.

 .

সূত্র : The Delta Lens.

.

Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ