• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

বাংলাদেশের স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা উচ্চগতির হুমকির সামনে সীমাবদ্ধ


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:০৪ এএম
ছবি : প্রতীকী

আধুনিক যুদ্ধে আকাশ প্রতিরক্ষা এখন প্রথম ও প্রধান প্রতিরক্ষা প্রাচীর। যেমন, ইসরায়েলের আকাশে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় Iron Dome অধিকাংশ হামলাই আকাশে প্রতিহত করেছে। একইভাবে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ইউক্রেন ব্যবহার করছে MIM-104 Patriot, IRIS-T এবং David's Sling। দক্ষিণ এশিয়াতেও ভারত ব্যবহার করছে S-400 Triumf ও Barak 8, আর পাকিস্তান মোতায়েন করেছে HQ-9/P ও LY-80।.

 .

এই বাস্তবতায় প্রতিটি দেশ মাল্টি-লেয়ার্ড এয়ার ডিফেন্স গড়ে তুলছে। কিন্তু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ এখনো শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে পারেনি।.

 .

ভারত ও চীনের প্রভাব বিস্তারের মাঝখানে, বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে এবং মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা অবস্থানে বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। প্রশ্ন হচ্ছে—দেশের আকাশ কতটা সুরক্ষিত? উচ্চগতির ফাইটার জেট, ক্রুজ মিসাইল বা স্টিলথ ড্রোন মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি কতটা?.

 .

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধান ভূমিভিত্তিক প্রতিরক্ষা এখনো ২০১১ সালে কেনা চীনের তৈরি FM-90 স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এটি ড্রোন, হেলিকপ্টার বা নিচু দিয়ে উড়া লক্ষ্যবস্তুতে কার্যকর হলেও উচ্চগতির যুদ্ধবিমান বা দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল ঠেকাতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।.

 .

বিমান বাহিনীর হাতে রয়েছে ৪৪টি যুদ্ধবিমান—এর মধ্যে ৩৬টি চীনের এফ-৭ এবং ৮টি সোভিয়েত যুগের মিগ-২৯। প্রশিক্ষণ ও হালকা আক্রমণে ব্যবহৃত ১৪টি ইয়াক-১৩০ আছে। এসব বিমানের বেশিরভাগই দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের হওয়ায় আধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তির বিরুদ্ধে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এছাড়া বহরে রয়েছে ৭৩টি হেলিকপ্টার, যার মধ্যে রাশিয়ার এমআই সিরিজের ৩৬টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত বিভিন্ন মডেলের ২৪টি।.

 .

মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবরের ভাষায়, দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “জিরোর কাছাকাছি”। তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা সীমিত। তিনি বলেন, প্রতিরোধ সক্ষমতা (ডিটারেন্স) ছাড়া কূটনীতির গুরুত্ব কমে যায়। তাই বাজেট সীমিত হলেও আকাশ প্রতিরক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হবে।.

 .

আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের কাছে রয়েছে ৪৪টি ড্রোন—এর মধ্যে ৩৬টি স্লোভেনিয়ার ব্রামর সি ফোর আই এবং তুরস্কের Bayraktar TB2 ছয়টি। নৌবাহিনীর কাছে আছে দুটি চীনা সাবমেরিন, যা ২০১৭ সালে যুক্ত হয়।.

 .

আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম Global Firepower-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে রয়েছে ১১৭টি নৌযান, যার মধ্যে সাতটি ফ্রিগেট ও ছয়টি কর্ভেট। স্থলবাহিনীর কাছে রয়েছে ৩২০টি ট্যাংক, ৪৬৪টি কামান এবং ৭৭টি মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেম।.

 .

এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন বলেন, আধুনিক যুদ্ধে আকাশে যার কর্তৃত্ব, বিজয় তার দিকেই ঝোঁকে। তিনি মনে করেন, অন্তত সমুদ্রসীমার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নজরদারি ও প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি। এর জন্য প্রয়োজন মধ্য ও দীর্ঘপাল্লার সমন্বিত সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবস্থা ও উন্নত ফাইটার এয়ারক্রাফট।.

 .

বাংলাদেশের বড় ঘাটতি হলো মাঝারি ও দূরপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলের অভাব। চলতি মাসে বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে নতুন রাডার GM 403M। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা একটি সমন্বিত ও ব্যয়সাপেক্ষ ব্যবস্থা, যা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।.

 .

কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, বাংলাদেশের সামরিক নীতি আক্রমণ নয়, প্রতিরক্ষামূলক। কিন্তু কার্যকর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা, বেসরকারি বিনিয়োগ আনা এবং একাডেমিক গবেষণার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।.

 .

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত একটাই—আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় শক্তিশালী, বহুস্তরভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।.

 .

 .

সূত্র: বণিক বার্তা , বিবিসি বাংলা. .

Ajker Bogura / সামসিল আরিফিন

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ