• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ০২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পোস্ট শেয়ার করে গ্রেপ্তার, আলোচনা সমীর কুমার দে


Ajker Bogura ; প্রকাশিত: বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে আজিজুল হক (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার ঝনকা বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ এবং পরদিন শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রথমে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পরে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে একমাত্র আসামি করা হয়েছে আজিজুল হককে। মামলাটি দায়ের করেন কাশিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলু।.

 .

ঘটনার সূত্রপাত একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে, যেখানে ‘তারেক রহমান ব্লগ’ নামে একটি আইডি থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর ছবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংযুক্ত করে একটি পোস্ট করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আজিজুল হক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সেই পোস্টটি শেয়ার করেন। এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছেন, সরাসরি চাপ না থাকলেও রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।.

 .

তবে আজিজুল হকের পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তার চাচাতো ভাই ফয়জুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের আগে আজিজুল তাকে বলেছেন যে তিনি নিজে পোস্টটি শেয়ার করেননি। তার দাবি, ওইদিন কেউ একজন ফোনে কথা বলার অজুহাতে তার মোবাইল কিছু সময়ের জন্য নিয়েছিল এবং সেই সময়েই পোস্টটি শেয়ার করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, আজিজুল লেখাপড়া জানেন না এবং ফেসবুক ব্যবহারে তেমন দক্ষ নন।.

 .

অন্যদিকে, মামলার বাদী মো. ফজলু দাবি করেছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তার মতে, আজিজুল এর আগেও এ ধরনের একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছেন এবং একজন সচেতন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি মামলা করেছেন। তিনি আরও জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও মামলা দায়েরের পর দল বা সরকারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।.

 .

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি জানার পরই তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল না। মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান বলেন, অপরাধ নিশ্চিত হওয়ার পর মামলার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই, তাই তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগই এই পদক্ষেপের মূল কারণ।.

 .

ঘটনাটি নিয়ে মানবাধিকার মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে অনেক ক্ষেত্রে সহনশীল হিসেবে দেখা গেলেও এই ঘটনায় এত দ্রুত গ্রেপ্তার করা কেন প্রয়োজন হলো তা ভাবনার বিষয়। তার মতে, এমন ঘটনায় কাউকে মাঝরাতে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো কতটা যৌক্তিক, তা সরকারকে খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিউৎসাহী হয়ে কেউ এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তা ভবিষ্যতে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।.

 .

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী বলেছেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও সেই স্বাধীনতার একটি সীমা রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করা বা ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন তৈরি করা স্বাভাবিক বিষয়, কিন্তু কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অশালীন বা আপত্তিকর ছবি জুড়ে দেওয়া মতপ্রকাশের মধ্যে পড়ে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুক্তাগাছার ঘটনাটি প্রশাসনের নিজস্ব আইনি প্রয়োগের অংশ এবং এতে সরকারের কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেই।.

 .

সব মিলিয়ে, একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ারকে কেন্দ্র করে হওয়া এই গ্রেপ্তার এখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রভাব—এই তিনটি বিষয়কে সামনে এনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।. .

Ajker Bogura / ডি আর/ এসএ

সোসাল মিডিয়া বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ